ঘাটাইলে বিক্রির সময় সরকারি চাল জব্দ, এক মাস পরও আড়ালে মূল হোতা

গত ৮ এপ্রিল ভোরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ওএমএসের সাড়ে ছয় বস্তা চাল বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় চালসহ এক অটোরিকশাচালককে আটক করা হয়। অবৈধ মালামাল বহন করায় চালক আবু তাহেরকে দশ দিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চালগুলো কোথা থেকে, কার মাধ্যমে তার অটোরিকশায় এসেছে এবং কার দোকানে বিক্রি করা হবে, তা তাহের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিলেন ওই সময়।

ওই ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই সঙ্গে ইউএনও থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। অথচ ঘটনার এক মাস পাঁচ দিন পার হলেও মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি প্রশাসন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তদন্ত নিয়েও।

এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কমে গত ৮ এপ্রিল ‘ঘাটাইলে বিক্রির সময় সরকারি চাল জব্দ, অটোচালকের কারাদণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই সময় অটোরিকশাচালক তাহের তার জবানবন্দিতে বলেছিলেন, উপজেলার কুলিয়া গ্রাম থেকে চাল অটোকিশায় তুলে দেন ভুলু চকিদার (গ্রাম পুলিশ)। উদ্দেশ্য ছিল টিলাবাজার শাহজাহানের দোকানে নিয়ে বিক্রি করা। ১০ টাকা কেজির চালগুলো ঘাটাইল ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

ওই ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। অথচ ঘটনার এক মাস পাঁচ দিন পার হলেও এ বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাননি বলে সমকালকে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা কামাল হোসেন।

অন্যদিকে ঘাটাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও তদন্ত কমিটির প্রধান শাকির হোসেন দাবি করেন, তদন্ত করে প্রতিবেদন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ‘খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে তিনি আমাকে কিছু জানাননি। লিখিতভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ওসিকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়েও ওসি আমাকে কিছু জানাননি। তবে ওই গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। অনেকদিন পার হওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-