ঘাটাইলে বাইসাইকেলে ফেরিওয়ালা

পরিবারকে সুখে রাখতে, পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে কত পেশাই না মানুষ খোঁজে বের করে থাকেন। সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র বিক্রি করাও তেমন একটি পেশা। পরিবার, পরিজন ছেড়ে মাসের পর মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় থেকে নানা প্রতিকুল পরিবেশ উপেক্ষা করে উপার্জন করতে হয় অর্থ। সেই উপার্জনের টাকায় একটু হাসি ফোটে পরিবারের প্রিয় মানুষদের মুখে।

একটি বাইসাইকেলের সামনে পিছনে সাজানো রয়েছে প্লাস্টিকের তৈজসপত্র, শিশুদের খেলনা সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র। ফেরিওয়ালাদের প্রত্যেকের হাতে রয়েছে প্লাস্টিকেন লম্বা বাশি। শিশুদের আকৃষ্ট করতে বাঝানো হয় এই বাশি।

শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে, ফেরিওয়ালারা রঙচটা একটি সাইকেল ভর্তি মালামাল নিয়ে গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে ছুটে চলে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী এলাকায় চোখে পড়ে তেমন শতাধিক ফেরিওয়ালাদের একটি সাইকেল বহরের দৃশ্য। সাগরদিঘী বাজারের গারোবাজার-রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন এ ফেরিওয়ালাদের দল। সংখ্যায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন ফেরিওয়ালাদের মাঝে ৫ জন মাহাজন রয়েছে। মহাজনের কাছ থেকে পাইকারী মাল ক্রয় করে গ্রামে গ্রামে বিক্রয় করেন তারা।

কথা হয় ফেরিওয়ালা গোলাম রাব্বানির সাথে। তিনি চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর গ্রাম থেকে এসেছেন। তিনি জানান, খুব অল্প পুজিতে এ ব্যবসা শুরু করেছি। দৈনিক ১৫শ থেকে ২০০০ টাকা বিক্রি করতে পাড়লে ৩ থেকে ৫ শত টাকা লাভ থাকে। প্রতি মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়।  মাঝে মাঝে নিজেও বাড়িতে গিয়ে দু’একদিন থেকে আসি।

ফেরিওয়ালা মাসুদ রানা বলেন, আমরা সবাই একই এলাকার মানুষ। সবার বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলায়। আমরা একে অন্যের সাথে মিলে-মিশে কাজ করি। প্রায় তিন বছর যাবৎ সাগরদিঘী এলাকায় থাকি। সাগরদিঘী এলাকার মানুষ খুব ভালো। এখানে আমাদের কোন সমস্যা হয় না। তবে ‘কাল্লা কাটা’ গুজব চলাকালে আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এলাকায় গেলে সবাই সন্দেহ করতো। এখন আর এ সমস্যা নেই।

একই এলাকার মহাজন জামাল মিয়া বলেন, প্রায় দশ বছর যাবৎ এ পেশায় রয়েছি। এ পেশাকে ভালোবাসি। তাছাড়া কোন পেশাকেই  কখনো ছোট করে দেখা উচিত নয়। অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করার চেয়ে এ পেশাও অনেক সম্মানের।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-