ঘাটাইলে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা তিন ছাত্রীকে দেওয়া টিসি প্রত্যাহার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা তিন স্কুলছাত্রীর বদলি সনদ (টিসি) প্রত্যাহার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার তাদের বদলি সনদ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) টিসি প্রত্যাহার করে।

ঘাটাইল পৌর শহরে অবস্থিত এস ই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী গত ২৬ জানুয়ারি উপজেলার ঝড়কা বন এলাকায় বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এক ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা এখন কারাগারে রয়েছেন।

ওই তিন ছাত্রীকে স্কুল কর্তৃপক্ষ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি টিসি দেয়। এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল এস ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুলি বেগম বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে ছাত্রীদের টিসি দেওয়া হয়। এই তিন ছাত্রীর মধ্যে দুজন স্বেচ্ছায় চলে যেতে চেয়েছিল বলে তাদের টিসি দেওয়া হয়।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক এই তিন ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ওই ছাত্রীরা স্কুলে পড়লে অভিভাবকেরা তাঁদের মেয়েদের এই স্কুলে রাখবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তাই স্কুল পরিচালনা কমিটি সভা করে দুই সপ্তাহ আগে ওই তিন ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে এই তিন ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার খবরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এটাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন নারী অধিকারকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ধর্ষকের বিচারের জন্য ভূমিকা রাখা উচিত ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারা উল্টো শিক্ষার্থীদের টিসি দিয়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছে। তাদের এই সিদ্ধান্ত প্রকারান্তরে ধর্ষকদের পক্ষেই গেছে।’

নারীনেত্রী ও মানব প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা শেলী বলেন, ‘তিন শিক্ষার্থীকে টিসি দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ খুব অন্যায় কাজ করেছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা প্রয়োজন।’

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে তাদের টিসি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেছেন। তারা এই স্কুলেই পড়বে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-