ঘাটাইলে দেশবিরোধীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে?

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় যারা ৭১ সালে সরাসরি দেশ স্বাধীনের বিরোধী ছিল, যাদের ইশারায় এ দেশের নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা ও অসংখ্য মা বোনের ইজ্জত হরণ করা হয়েছিল, যারা পশ্চিমা হানাদার বাহিনীকে খুশি করতে এ দেশের বাড়ি ঘরে হামলা ও মিল কারখানায় আগুন জ্বালিয়ে দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছে, সেইসব দেশ বিরোধীরা ঘাটাইলকে অশান্ত করে তুলতে ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে।

জানা যায়, ৭১ এর যুদ্ধে ঘাটাইল উপজেলায় (পাকবাহিনীর দ্বারা গঠিত) পিচ কমিটির সদস্য সহ প্রায় ২ হাজার দেশ বিরোধী লোক ছিল। তাদের মধ্যে অনেকে ছিল চিহ্নিত রাজাকার, পিচ কমিটির সদস্য ও সহমত ধারীর লোক। দেশ স্বাধীনের পর এরা প্রায় সকলেই নিজেকে রক্ষা করতে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে বিএনপি দল প্রতিষ্ঠা হলে এইসব দেশ বিরোধীরা প্রায় সকলেই খোলস পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগদান করে বিভিন্ন পদ পদবীতে আসিন হয়। অল্প কিছু লোক স্থানীয় নেতাদের বখরা দিয়ে কৌশলে আ’লীগে প্রবেশ করে। অতীতে তাদের বিচার না হওয়ায় বর্তমানে উভয় দলের সংখ্যা বেড়ে তারা ৮-১০ হাজার লোক হতে পারে এমন ধারা অনেকের।

জানা যায়, দলের বাহিরে ও ভিতরে থাকা এইসব দেশবিরোধী লোক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা, নিজেরা অপরাধ সংগঠিত করে পুনরায় তারাই ব্যানার হাতে নিয়ে রাস্তা দাড়িয়ে প্রতিবাদ করছে। তারা বিভিন্ন সময়ে উস্কানিমূলক কর্মকান্ড ও কথাবার্তা বলে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে বার বার বিতর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা মুখে আ’লীগ ভিতরে পাকিস্তানি কর্মকান্ড করে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা নানা অজুহাতে ত্যাগী নেতাদের প্রতিপক্ষ বানাইয়া সরকারি দেয়া সকল সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত করে কৌশলে নিজেরা ভোগ করছে। তারা পায়ে পাড়া দিয়ে ঘটনা সৃষ্টি করে মামলা মোকদ্দমার ফাঁদে ফেলে নেতাকর্মীদের হয়রানি সহ সর্বশান্ত করে তাদের সন্মান হানি করছে। তারা তৃণমূল আ’লীগ থেকে জেলা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে গ্রুপিং সৃষ্টি করে দলের সমষ্টিগত শক্তিকে কৌশলে দ্বিধাবিভক্ত করে দলকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

এভাবে ঘাটাইল উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই আ’লীগ ধ্বংসের বিভক্তি চলছে। ফলে ঘাটাইল আ’লীগ উপরে ঢাকঢোল করে চললেও বারবার হোচট খেতে খেতে একশবছর বৃদ্ধ লোকের চেয়েও দুর্বল, অপরদিকে দেশবিরোধী লোক দলের ভিতরে থাকায় মরনব্যাধি ক্যান্সার রোগের চেয়েও যন্ত্রনা নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইলডটকম)/-

(এই প্রতিবেদনটি একান্তই লেখক, সিনিয়র সাংবাদিক রবিউল আলম বাদলের নিজস্ব মতামত। এই বক্তব্যর সাথে আপনি সহমত বা বিরোধিতা করতে পারেন। লেখক এই বক্তব্য সম্পর্কে পাঠকদের মতামত ও তথ্য চেয়ে সহযোগিতার আশা করছেন, পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরির জন্য । তার সাথে যোগাযোগের মোবাইল নম্বর ০১৭১৮ ৯১৯৮৫৪।)/-