ঘাটাইলে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সাথী (২০) নামের এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নিহতের শ্বশুরবাড়ি ঘাটাইলের দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামে। এ ঘটনায় সোমবার সাথীর বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামী আলম, শ্বশুর বেলায়েত হোসেন, দেবর সজিব (৩০) ও শাশুড়ি নুরনাহার বেগমকে (৬০) আসামি করা হয়েছে।

নিহত সাথী মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে ও ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামের বেলায়েত হোসেনের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

জানা গেছে, অকারণে মাঝে মাঝেই তার স্ত্রী সাথীকে অকথ্য গালিগালাজ ও নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে সাথীকে তার স্বামী দেবর ও শাশুরি মিলে নির্যাতন করে ঘরে আটকে রেখে দুই দিন না খাইয়ে রাখে। এতে সাথী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুদিন পর গত ২০ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাথীর গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসে। ততক্ষণে আগুনে ঝলসে গিয়ে শ্বাসনালীসহ শরীরের ৭৬% অংশ পুড়ে যায়।

মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঘাটাইল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ২৬ জুলাই সেখানে তার মৃত্যু হয়।

সাথীর মা রাশিদা বেগম বলেন, ৬ বছর আগে আমার মেয়ে সাথীকে ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আলমের (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের ২-৩ বৎসর পর থেকেই আমার মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতনের পরেও ‘বুকে পাথর বেঁধে’ আমার মেয়ে সব কিছুই সহ্য করেছে।

ধোপাজানি গ্রামের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মনিরুজ্জামান মনির জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনে যে কলহ হয়েছে তা আমাকে কখনো জানানো হয়নি। ঘটনার পরে জানতে পারলাম ভেতরে ভেতরে তাদের কলহ চলছিল। দুই দিন না খাইয়ে রাখা হয়েছিল।

ঘাটাইল থানার ওসি মো. মাকছুদুল আলম ঘাটাইলডটকমকে বলেন, মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নিজের গায়ে নিজেই কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাড়াতাড়িই মামলাটি রেকর্ড হবে। তদন্তে ঘটনার কারণ উদঘাটিত হবে বলে জানান তিনি।

(ফজলুর রহমান, ঘাটাইলডটকম)/-