ঘাটাইলে গাছে অজ্ঞাত যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ

টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পাকুটিয়া এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে একটি মেহগনি গাছে মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে হত্যার পর লাশটি ওই গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ঘাটাইলের পাকুটিয়া দয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া এলাকায় মেহগনি গাছের সঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। লাশের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ সময় মরদেহের পরনে লাল রঙ্গের চেক শার্ট ও লুঙ্গি পড়া ছিল। গায়ের রঙ ফর্সা, বয়স আনুমানিক ৩৬ বছর হবে বলে ধারনা করছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, ঘাটাইলের পাকুটিয়া দয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া দয়াকান্দি ঋষি পাড়া এলাকায় মেহগনি বাগানে গাছের সাথে গলায় মাফলার পেঁচানো এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ ঝুলতে দেখে স্থানীয়রা দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ চাঁন মিয়াকে সংবাদ দেন। তিনি দ্রুত ঘটনাটি থানায় অবহিত করেন। মুহুর্তের মধ্যে ঘটনাটি গোটা উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি গাছের সাথে মাফলার পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড কি না বলা যাচ্ছে না। এ সময় লাশের দুটি পা জুতা পড়া অবস্থায় মাটির সাথে ভর করা দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল বলে জানান এলাকাবাসী।

দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খান ঘাটাইলডটকমকে জানান, স্থানীয় লোকজন ও ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বারের কাছে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে একটি গাছের সাথে গলায় মাফলার দিয়ে পেঁচানো ঝুলে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত মরদেহটি দেখি। আমার কাছে লোকটাকে কখনো অত্র এলাকায় দেখেছি বলে মনে হয়নি। তাছাড়া কেউ চিনে বলেও জানা যায়নি।

ঘাটাইল থানার এসআই আপেল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা যাচ্ছে না এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। ময়নাতদন্ত শেষে সঠিক কারণ জানা যাবে।

ঘাটাইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তদন্ত করে আসল ঘটনা জানা যাবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাংগাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হবে। আপনজন না পাওয়া গেলে বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে লাশ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

(আতিক সরকার, ঘাটাইলডটকম)/-