ঘাটাইলে কোরবানির পশু নিয়ে লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাধারণ কৃষক ও খামারিরা। গত বছর ঈদে পশুর ভাল দাম পেলেও এবার তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। করোনা সংক্রমনের কারণে এবারের ঈদে কোরবানির পশু বিক্রি ও সঠিক মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে উপজেলার ছোট-বড় খামারিরা।

উপজেলার লাউয়াগ্রামের গ্রামের গরু খামারি নাসির উদ্দিন বিপুল প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে তিনটি দেশীয় জাতের গরু লালন পালন করেছেন। আশা করছেন গরু তিনটি দুই লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু করোনা সংক্রমনের কারণে ঈদ সামনে চলে আসলেও ক্রেতাদের আনাগোনা না থাকায় লোকসানের শঙ্কা ভর করেছে তার মনে।

এমন শঙ্কা শুধু নাসির উদ্দিনের নয় উপজেলার ছোট-বড় সকল খামারিদের।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক খামার রয়েছে। খামারির বাইরেও সাধারণ কৃষকরা ঈদ উপলক্ষে গরু লালন পালন করে থাকেন। সব মিলিয়ে এবার উপজেলায় ২০ হাজারেও বেশী কোরবানী উপযোগী গরু রয়েছে। যা দিয়ে উপজেলার কোরবানী গরুর চাহিদা মেটানো সম্ভব।

খামারিরা জানান, করোনার থাবার কারণে এবারের ঈদে যথাসময়ে গরু বিক্রি করতে না পারলে খামারিসহ অনেক সৌখিন কৃষকে লোকসানে পড়তে হবে।

খামারের শ্রমিকরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করতে খামারে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। খামারে পাইকারের আনাগোনা না থাকায় তারা হতাশায় ভোগছেন। কারণ খামার মালিকরা গরুর ভাল দাম না পেলে তাদের মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে।

ঘাটাইল উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের ভেটেনারী সার্জন ডা. বাহাউদ্দীন সরোয়ার রিজভী বলেন, উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস কোরবানীর পশু কেনাবেচার জন্য অনলাইন পশুর হাট চালু করবে। অপরদিকে কোরবানীর নির্ধাতিত হাটগুলোতে ক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয় বিক্রয় করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভারত থেকে গরু না আসলে খামারিদের লোকসানের পড়তে হবে না এবং দাম ভালো পাবে বলে আশা করছি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-