ঘাটাইলে ইটভাটায় পোড়ানো কয়লায় প্রতিদিন কার্বন নিঃসরণ ১ হাজার টন!

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৬০টি ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের কয়লা। প্রতি মৌসুমে একেকটি ভাটায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টন কয়লা পোড়ানো হয়। এতে অতিমাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণের ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এ অঞ্চলের পরিবেশের ওপর।

উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, ঘাটাইলে গড়ে উঠেছে ৬০টি ইটের ভাটা। জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে স্থাপন করা এসব ভাটার সবগুলোই গড়ে তোলা হয়েছে ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এবং আবাসিক এলাকায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অমান্য করে গড়ে উঠেছে এসব ভাটা। এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় কয়লা।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এক টন কয়লা পোড়ালে প্রায় তিন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়। এ হিসেবে সবগুলো ভাটা মিলে প্রতিদিন কয়লা পোড়াচ্ছে প্রায় ৩৩৩ টন এবং এ থেকে প্রতিদিন কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে ১ হাজার টন। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর।

এতে মানুষের শ্বাসকষ্ট ও হার্টের রোগসহ দেখা দিচ্ছে নানা রোগ। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ঘাটাইল এলাকার গাছের ডাবে পানি পাওয়া যায় না। ফসলি জমিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

গত ভাটার মৌসুমে উপজেলার হাজীপুর মানিকপুর এলাকায় ফরিদ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ২৫ একর জমির বোরো ধান পুড়ে যায়। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম ঘাটাইলডটকমকে বলেন, ঘাটাইল উপজেলার ভাটাগুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেই। তাহলে কীভাবে অনুমোদনবিহীন ভাটাগুলো চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ আদালতে রিট করে ইট পোড়াচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এএসএম সাদত ঘাটাইলডটকমকে বলেন, এক টন কয়লা পোড়ালে প্রায় তিন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়, সঙ্গে ক্ষতিকর সালফার ডাই-অক্সাইডও নিঃসরণ হয়। এসব বিষাক্ত গ্যাস পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন যৌগ অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী। অ্যাসিড বৃষ্টি জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক। এসব গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো না গেলে এলাকার মানুষের কৃষি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ঘাটাইলডটকমকে বলেন, কয়লা পোড়ানোর ফলে যে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয় তা শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, আমাদের পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এসব গ্যাস নিঃসরণ বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে প্রাণিজগৎ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘাটাইলডটকমকে বলেন, ইটভাটা তো একেবারে বন্ধ করা যাবে না। এ কারণে পরিবেশবান্ধব অটোইটভাটা স্থাপনের জন্য উৎসাহিত করে যাচ্ছি।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইলডটকম)/-