১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে মে, ২০২০ ইং

ঘাটাইলে আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আগস্ট ১৯, ২০১৯

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আনেহলা ইউনিয়নের হাটকয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা বায়েজীদ তালুকদার পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আনেহলা ৪নং ওয়ার্ডের ভূমি অফিস থেকে জুলুর বাড়ি পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গাইডওয়াল নির্মাণের নামে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৪৭ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে সামান্য কাজ করা হয়েছে। ওই একই প্রকল্পের নামে আবারও ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫০ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে কোনো কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

একই অর্থবছরে একই ওয়ার্ডের হামিদের বাড়ি থেকে বারেকের বাড়ি পর্যন্ত একটি রাস্তার নামে প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৭৮ টাকা। রাস্তাটি দৈর্ঘ্যে ৫০ গজের মতো। বাসিন্দা জুলহাস জানান, ২-৩ বছর আগে ৪০ দিন কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে এখানে কয়েক পাইছা মাটি ফেলানো হয়েছে। তাছাড়া এ রাস্তায় কোনো কাজ করা হয়নি।

৯নং ওয়ার্ডের গকুলনগর ‘তোজাম্মেলের বাড়ি থেকে সিংগুরিয়া উচ্চবিদ্যালয় গেট’ নামে একটি প্রকল্পের বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ স্থানীয় বজলুর রহমান জানান, এ প্রকল্পের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ২-১ বছরে কোনো কাজ করা হয়নি।

ওই গ্রামের আ. কুদ্দুছ জানান, চলতি জুন মাসের দিকে ৪০ দিন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে সামান্য কাজ করা হয়েছিল।

অভিযোগের ভিত্তিতে একই অর্থবছরের ‘বাঁশকাইল পাকা রাস্তা থেকে লোকেরপাড়া মজনুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃমেরামত’ নামে কাবিটা প্রকল্পটিতে সরেজমিন গেলে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ঘাটাইলডটকমের কথা হয়। তিনি জানান, এ রাস্তার বাঁশকাইল ব্রিজপাড় থেকে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ৪০ দিনের প্রকল্পের কাজের শ্রমিক দিয়ে আমি কিছু কাজ করিয়েছিলাম। এ ছাড়া এ রাস্তায় কোনো কাজ তো দূরের কথা এ রাস্তার নামে কোনো প্রকল্প হয়েছে কিনা তা-ও আমার জানা নেই।

এক সময় ব্রিজপাড়ের কাছে রাস্তার এক জায়গায় গর্ত ও কাদা হয়ে খাদের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সময় রিপন মিয়া নামে এলাকার একজন মাটি ব্যবসায়ী ২৫ হাজার টাকা দেয়। সেই টাকা দিয়ে মাটি ও কিছু ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তাটি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয় বলে ঘাটাইলডটকমকে জানান তিনি।।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান বলেন, আমি সঠিকভাবে কাজ করেছি।

উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিআইও এবং ইউএনও’র যোগসাজশ রয়েছে। ফলে শত অভিযোগেও কিছু হবে না।

জানতে চাইলে পিআইও এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কিছু প্রকল্প আমি বুঝে নিয়েছি। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে যে কাজ হয়েছে সেগুলো আমার জানা নেই। এ ছাড়া আর কোনো কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার অফিসে গিয়েও ইউএনও মো. কামরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। পরে বুধবার বিকালে তার কর্পোরেট মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে রিং বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম লেবু ঘাটাইলডটকমকে বলেন, বিষয়টি আমি জানি। আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। এখন পর্যন্ত আমি প্রকল্পগুলো দেখিনি।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইলডটকম)/-

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Adsense

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

Divi Park

পঞ্জিকা

মে 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Adsense

%d bloggers like this: