ঘাটাইলে অবৈধভাবে চলছে জর্দা ফ্যাক্টরি

সরকারকে কোটি কোটি টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে পণ্যের গায়ে অন্যের ছবি ব্যবহার করে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার রৌহা গ্রামে অবৈধ জর্দার ফ্যাক্টরি গড়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাক্টরি ঘাটাইলে হলেও পণ্যের গায়ে ঠিকানা ব্যবহার করছেন ঢাকার মিরপুরের। বাস্তবে ঢাকার মিরপুরে এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শরীফ কেমিক্যাল কোম্পানি নামে-বেনামে জর্দা বাজারজাত করে বিশাল অর্থের মালিক হচ্ছেন কাদের খান।

সরেজমিনে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার রৌহা গ্রামে গড়ে উঠেছে শরীফ কেমিক্যাল কোম্পানি নামে জর্দা ফ্যাক্টরি। আর এর মালিক হচ্ছেন ওই গ্রামের আবদুল কাদের খান। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পোকামাকড় ময়লা আবর্জনার মাঝে শরীফ জর্দা, রতন জর্দা, শোভা জর্দা, দরবার জর্দাসহ আরো অনেক নামকরা কোম্পানির পণ্যের নাম, স্টিকার ও বিএসটিআই’র সীল হুবুহু নকল করে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই কাদের খান। নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা অবৈধ এ জর্দার ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করছেন প্যাকিং ও মিক্সারিংয়ের দুটি ম্যাশিন।

স্থানীয় হওয়ায় এলাকায় নিজের মতো করে অবৈধ ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে ওই শরীফ কেমিক্যাল কোম্পানি। উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্যের ছবি নিজের পণ্যের গায়ে ব্যবহার করে নামে-বেনামে অবৈধ জর্দা বাজারজাত করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তোয়াক্কা করছেন না কোনো সরকারি নিয়মনীতি। দিচ্ছেন না কোনো ভ্যাট-ট্যাক্স। এতে একদিকে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।

শরীফ কেমিক্যাল কোম্পানির বিভিন্ন জর্দার প্যাকেটের গায়ে ঠিকানা দেয়া ঢাকার মিরপুরের। কিন্তু বাস্তবে ঢাকার মিরপুরে কোনো অফিস কিংবা কোনো কারখানা নেই। সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়াতো দূরের কথা উল্টো ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, ভুয়া ভ্যাট নাম্বার এবং পণ্যের গায়ে অন্য একজনের ছবি ব্যবহার করে নামে-বেনামে জর্দা বাজারজাত করছেন।

অবৈধ জর্দার ফ্যাক্টরির বিষয়ে কাদের খান বলেন, আমি সরকারের কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স ফাঁকি দেই না। ফ্যাক্টরির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বার কেন ব্যবহার করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

(কামাল হোসেন, ঘাটাইলডটকম)/-