ঘাটাইলে অবাধে বিক্রি ইয়াবার বিকল্প নেশার ট্যাবলেট, নির্বিকার প্রশাসন

টাপেন্টাডল মূলত ব্যথানাশক ট্যাবলেট। পেন্টাডল, ট্যাপেন্টা ইত্যাদি নামে এটি বাজারজাত করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি। কিন্তু মাদকাসক্তরা এটিকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে। হেরোইন ও ইয়াবার দাম বেশি হওয়ায় স্বল্পমূল্যের এ ট্যাবলেটই বেছে নিয়েছে তারা। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এ ‘নেশার’ ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে অবাধে।

এই ট্যাবলেট বিনা প্রেসক্রিপশনে যত্রতত্র বিক্রি বন্ধে গত ২৮ জুলাই ইউএনও বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত ৮ জুলাই এ ট্যাবলেটকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলভুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে নির্দিষ্ট ফার্মেসিতে বিক্রিসহ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ঘাটাইলের একশ্রেণির ব্যবসায়ী এ খবর শুনে বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট মজুদ করে অবাধে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লিখিত অভিযোগ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল ঝড়কা, মাকড়াই, দিয়াবাড়ি, ছনখোলা, ছামানের বাজার, ধলাপাড়া, সাগরদীঘি, গারোবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসিতে হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে এ জাতীয় ট্যাবলেট।

আর বিনা প্রেসক্রিপশনে কিনে নিয়ে যাচ্ছে মাদকসেবীরা। ১৮ টাকা মূল্যের প্রতি ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকায়।

ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ব‌্যথানাশক এই ট‌্যাবলেটের ব‌্যবহার বেড়েছে ঘাটাইলে। ইয়াবার মতো করেই ব‌্যথানাশক এসব ট‌্যাবলেট গ্রহণ করেন মাদকসেবীরা। দামে সস্তা ও হাতের নাগালে থাকায় তাই এর ব‌্যবহার বেড়েছে। ইয়াবার বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ব‌্যথানশক ট‌্যাবলেটকে বেছে নিয়েছে মাদকসেবীরা।

এদিকে নেশার টাকা সংগ্রহ করতে ওইসব এলাকায় বেড়ে গেছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা ধরনের অসামাজিক কাজ।

ঘাটাইলের ইয়াবাসেবীদের কাছে এখন এসকেএফ ওষুধ কোম্পানির ট্যাপেন্টা ট্যাবলেটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। বাজারে এ ট্যাবলেটটির দাম হু হু করে বেড়ে উঠেছে। বর্তমানে ৫০ মিলিগ্রাম একটি ট্যাবলেটের মূল্য ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং ১০০ মিলিগ্রাম একটি ট্যাবলেটের মূল্য ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সেবনকারী বলেন, ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট সেবন করলে ইয়াবা ট্যাবলেটের মতোই নেশা হয়। অনেকে এ ট্যাবলেটের ব্যবসা করে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন বুনছে।

উপজেলার কোনাবাড়ি গ্রামের হামিদা বেগম বলেন, ‘আমি মাইনসের বাড়ি কাম কইরা খাই। আমার বাপ মরা একটা মাত্র পোলা নেশা করে। আগে গাঁজা খাইত, এহন কিয়ের জানি বড়ি নামছে তা খায়। বড়ি কিনার টেহা দিবার না পাইলে আমার গলায় ছুরি ধরে, ঘরের বেড়া বাইরাইয়া ভাঙ্গে। ছয় শতাংশ বাড়ির ভিটার অর্ধেক বেইচা খাওয়া শুরু করছে।’

ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ব‌্যথানাশক ট‌্যাবলেটের ব‌্যবহার বেড়েছে। ইয়াবার মতো করেই ব‌্যথানাশক এসব ট‌্যাবলেট গ্রহণ করেন মাদকসেবীরা। দামে সস্তা ও হাতের নাগালে থাকায় তাই এর ব‌্যবহারও বেড়েছে।

ওই এলাকার স্কুলশিক্ষক শফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, হাতের নাগালে এ ধরনের ট্যাবলেট পেয়ে এলাকার উঠতি বয়সের অধিকাংশ ছেলে নেশায় জড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় চুরি ছিনতাই বেড়ে গেছে। প্রশাসনকে এদিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করছি।

ঔষধ প্রশাসন টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক নারগীস আক্তার বলেন, এ ধরনের ওষুধ শুধু হাসপাতাল ও ক্লিনিক সংলগ্ন ফার্মেসিতে রাখার অনুমতি আছে। এ বিষয়ে ঘাটাইলে এখনও অভিযান চালানো হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে হবে।

ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, অভিযোগের কপি থানায় পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত করে সঠিক তথ্য জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

ঘাটাইল থানার ওসি মাকছুদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এগুলো নেশা হিসেবে সেবন করলে কিডনি-লিভার ড্যামেজ, ব্রেন স্টোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওষুধ তো পানি দিয়ে গিলে খাওয়ার কথা। কিন্ত ইয়াবার মতো করে নাক দিয়ে গ্রহণ করার ফলে ব্রেইন, কিডনিসহ জটিল রোগের আশঙ্কা থাকে। আস্তে আস্তে এসব মাদকসেবীরা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email