ঘাটাইলের ৬ ইউপি নির্বাচন; ধলাপাড়ার ভোট উৎসব একটু আলাদা বিশেষত্ব বহন করে

টাঙ্গাইল ঘাটাইলের বিস্তৃত গেরুয়া বর্ণের টিলাভূমির ইউনিয়ন ঐতিহ্যবাহী ধলাপাড়ার ভোট উৎসব বলা যায় সবসময়ই একটু আলাদা বৈশিষ্ট্য, বিশেষত্ব, অসাধারণত্ব ও উত্তেজনা বহন করে। ধলাপাড়া ভাগ হয়ে সম্প্রতি নতুন ইউনিয়ন সাগরদিঘী গেজেটভুক্ত হলেও ভোট উৎসবের কোন কমতি নেই এই ইউনিয়নের ভোটার ও প্রার্থীদের। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ধলাপাড়া সহ ছয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার)। প্রচার প্রচারণা এবং বিজয়ের মালা সবশেষে কার গলায় উঠবে, এসব নিয়ে ধলাপাড়া ইউনিয়নের দিকে সকলের চোখ সবার আগে।

ধলাপাড়া ইউনিয়নের এখন ভোটার প্রায় ২১ হাজার। এই ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন। এছাড়া সংরক্ষিত (নারী) সদস্য পদে আটজন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ শফিকুল ইসলাম। বিএনপি মনোনীত ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে রয়েছেন এজহারুল ভূইয়া মিঠু। এছাড়া রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকলেও স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হিসেবে রয়েছেন আরও তিন জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন, সরকার দলীয় এমপি (টাঙ্গাইল-৩, ঘাটাইল) রানা সমর্থিত রবিউল ইসলাম সেন্টু (আনারস), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম লেবু (ঘোড়া), এবং নাজিবুল হক ঝন্টু (মোটর সাইকেল)। পাঁচপ্রার্থীই যার যার অবস্থানে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী মনে করে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টায় কৌশলী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম লেবুর সঙ্গে এ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ প্রকাশ্য। টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় এমপি রানা কারাগারে রয়েছেন। তবুও ধলাপাড়া ইউনিয়নের মতো এলাকায় তার প্রভাব রয়েছে। এমপি রানা’র অনুসারীরা কেউ দলীয় মনোনয়ন পাননি, তাই তারা ছয় ইউনিয়নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এর প্রভাব পড়তে পারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীও বয়োজ্যেষ্ঠ এবং কয়েকবারের ইউপি সদস্য হওয়ায় তিনিও আলোচনায় রয়েছেন ভোটারদের। ফলে বিএনপি অথবা স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী থেকে যে কেউ ধলাপাড়ায় জয়ের হাসি হাসতে পারেন। মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে নাজিবুল হক ঝন্টুও এলাকায় একটা পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এসব নিয়ে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনভাবে আলোচনা রয়েছে।

জানা যায়, এমপি রানার অনুসারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন। এর ফলে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগে দলীয় বিভক্তি বিভেদ থাকার কারণে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। আবার চমক দেখাতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। এদিকে দলীয় প্রতীকের প্রতি আনুগত্যরও বলিষ্ঠ স্বাক্ষর রাখতে পারেন ইউনিয়নটির ভোটাররা। এলাকাবাসীর ধারণা, একটা ত্রিমুখী লড়াইয়েই শেষপর্যন্ত অবতীর্ণ হচ্ছে এই নির্বাচন।

ধলাপাড়া ভেঙ্গে নতুন ইউনিয়ন সাগরদিঘী গেজেটভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৬ সালে উপজেলার অন্য আট ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলেও এই ছয় ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি আইনি জটিলতায়। তবে এ নির্বাচনকে ঘিরে যেন শতভাগ প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই ইউনিয়নের মাটি ও মানুষ। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিরলস বিচরণে একটা অন্যরকমের ভালোলাগার পরিবেশ বিরাজ করছে ইউনিয়নটির সর্বত্র।

এ পর্যন্ত নির্বাচন কেন্দ্রিক কোন বিশৃঙ্খলার দেখা পাওয়া যায়নি। ভোটাররা একত্রীতভাবে পাশাপাশি বসে নিজেদের মধ্যে জমিয়ে বিতর্ক ও বিশ্লেষণ করছেন কোন প্রার্থী বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনসাধারণের সুযোগ, সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। সব জল্পনার অবসান হতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ২৯শে মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল.কম)/-