ঘাটাইলের লাল পাহাড়ে কালো থাবা, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাহাড়িয়া এলাকায় অবাধে চলছে লাল মাটির পাহার ও টিলা কাটার মহোৎসব। প্রাকৃতিক সৌন্ধর্যের এসব পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। তা ছাড়া পাহাড়ের লাল মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর ও নিচু জমি।

জানা যায়, বিভিন্ন ফসল ও সবজি আবাদের নাম করে কিংবা বাড়িঘর নির্মাণের কথা বলে ২০-৩০ ফুট উঁচু টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে।

ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের জুগিয়াটেংগর গ্রামের আবু বকর মিয়া, আবুল হোসেন ও তাঁর ভাই নুরুল ইসলাম বিশাল আকৃতির দুটি টিলার গাছ ও মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রতি বছর চলে পাহাড়ী টিলা কাটার ধুম। একইভাবে এ বছরও লাল মাটির সুউচ্চ টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে অনেকটাই সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে।

শনিবার বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকার দেওপাড়া ইউনিয়নের মলাজানি বাজারের ২০০ গজ পশ্চিমে ৩০ ফুট উঁচু বিশাল আকৃতির এক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করার দৃশ্য। স্থানীয়রা বলছেন ইতিমধ্যে টিলা কেটে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে কাউকে না পেয়ে স্থানীয় মলাজানি বাজারে গেলে খুঁজে পাওয়া যায় আবুবকর মিয়ার ভাই নুরুল ইসলামকে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নুরুল ইসলাম নুরু সাংবাদিক পরিচয় জানার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান। পরে আবুবকর মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে আবুবকর বলছেন কিনা জানতে চাইলে অমনি কেটে দেন। পরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে দেওপাড়া ইউনিয়ন তহশিলদার রাজ্জাক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর আমার লোক পাঠিয়ে বাঁধা দিয়েছিলাম। টিলা হলেও জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। বাধা দিলেও তারা মানেনা।

দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে আবুবকর ও তার ভাইয়েরা মিলে ছোট বড় লাল মাটির অনেক পাহাড় টিলাসহ বনবিভাগের জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে এলাকাবাসী জানান।

লাল মাটির পাহাড় বা টিলা কাটা আইনত নিষেধ থাকলেও বনবিভাগের দেওপাড়া বিটের একেবারে কাছেই দিবারাত্রি পাহাড়ী টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তা থামছেনা।

বন বিভাগের সংরক্ষিত জমিতে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও এ ব্যাপারে বন বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু দেওপাড়া নয়, ঝড়কা থেকে দক্ষিন দিকে ভানিকাত্রা হয়ে মাইধারচালা পর্যন্ত রাস্তার পাশে দেখা গেছে পাহাড় কাটার দৃশ্য। বনবিভাগের সংরক্ষিত এলাকার এভাবে পাহাড় কাটার ফলে দিন দিন পরিবেশ বির্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

জানতে চাইলে দেওপাড়া বিটের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, পাহাড় বা টিলা রক্ষা করার দায়িত্ব ইউএনও সাহেবের আর বনবিভাগ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। ওই জায়গাটি বনবিভাগের না। ফলে আমাদের করার কিছুই নেই। তবে আমরা আবুবকরের নামে এর আগেও অভিযোগ পেয়েছি।

জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, পাহাড় যদি কোন ব্যাক্তিরও হয় তাহলেও কাটতে পারবেনা। এ রকম যদি কেউ কেটে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email