ঘাটাইলের রাস্তায় অজ্ঞাত বৃদ্ধ, মানবিক সাহায্যের আবেদন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় অজ্ঞাত ৭৫ বছর বয়সি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে রয়েছে। কে বা কারা তাকে ঘাটাইলে এনে রেখে গিয়েছে সে বিষয়ে এলাকার জনসাধারণ ঘাটাইলডটকমকে কোনপ্রকার তথ্য বা ধারনা দিতে পারেনি। আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ওই বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধকে ঘাটাইল দক্ষিণ পাড়ার সেটেলমেন্ট অফিসের পশ্চিম পার্শে রাস্তার পাশে একটি দোকানের সামনে অত্যন্ত অমানবিকভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় জনসাধারনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাত থেকে তাকে দক্ষিণ পাড়ার এখানে দেখা যাচ্ছে। কে বা কারা তাকে এখানে রেখে গেছে সেটা কেউ বলতে পারে না, কিন্তু সে আমাদের আশেপাশের এলাকার নয় বলে দাবি করছেন অনেকে। বয়স ও অবহেলায় ন্যূজ বৃদ্ধটি ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না বলে কথার ধরণ থেকে অনুমান করা যাচ্ছে না তিনি কোন এলাকা থেকে এসেছেন। বৃদ্ধটির শরীরে কোন কাপড় না থাকায় একজনে একটি গামছা কিনে দিয়েছে, তাতে করে তার আব্রু ঢেকে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, লোকটিকে আমি ঈদের দিন (১২ আগস্ট) ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে পারুল প্লাজার সামনে রাস্তায় বসে ভিক্ষা করতে দেখেছি। তখন সে কিছুটা সজীব ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি একেবারেই নুয়ে পড়েছেন। তার সারা শরীরে ময়লা এবং তার শরীরের নানা যায়গায় আঘাত বা অন্য কোন কারণে সৃষ্ট ক্ষত। সে ক্ষতয় মাছি বসে তাকে আরও বেশী অসুস্থ করে তুলছে।

স্থানীয় শিক্ষক মাঝহারুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রায়ই বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষজনকে তাদের আত্মীয় স্বজন কর্তৃক রাস্তায় ফেলে যেতে দেখি। এই বৃদ্ধটির ভাগ্যেও হয়তোবা এমনটি কিছু ঘটেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, তার সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। আসেনি যেমন কোন মানবিক লোকজন, তেমনই সরকারি প্রশাসন থেকে কোন কর্তৃপক্ষ। হয়তোবা তারা বিষয়টি জানেই না।

স্থানীয় মোহাম্মদ রোমান জানান, মানুষকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখলে খুবই কষ্ট হয়। কেন মানুষের শেষ পরিণতি এমন হবে, বলে উল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি। অতি সত্বর এই অজ্ঞাত বৃদ্ধর সু চিকিৎসা দাবি করে তিনি বলেন, সরকার তো কতো টাকা কতো পথে কতোভাবেই খরচ করে। আমাদের সরকারি হাসপাতাল, থানা ও উপজেলা প্রশাসন, চেয়ারম্যান, কমিশনার গণ এবং সমাজ সেবা কার্যালয় রয়েছে। তারা কি পারে না এই লোকটিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে একটু চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে?? তাহলে হয়তোবা লোকটি মরেও শান্তি পাবে। এভাবে থাকতে থাকলে সম্ভবত যেকোন সময় লোকটি মারা যাবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলছেন, হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তার প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা গেলে যদি সে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তবে বৃদ্ধটির থেকে তার আত্মীয় স্বজনদের নাম ঠিকানা উদ্ধার সম্ভব হতে পারে। তাছাড়া তাকে সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারি বৃদ্ধ পুনর্বাসন কেন্দ্রেও পাঠানো যেতে পারে। এদিকে থানা পুলিশও তৎপর হয়ে তার নাম ঠিকানা উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে পারে। এসব বিষয়ে তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেখতে পাওয়ার দাবি করেন ঘাটাইলডটকমের নিকট।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-