ঘাটাইলের ছয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সাগরদিঘী ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় মালেক (৩২) মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সমাপ্ত হয়েছে। উপজেলার ধলাপাড়া, রসুলপুর, সন্ধানপুর, লক্ষ্মীন্দর, সংগ্রামপুর ইউনিয়নের প্রাথমিক বেসরকারি নির্বাচনী ফলাফল পাওয়া গিয়েছে। সাগরদিঘী ইউনিয়নের গুপ্তবৃন্দাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহিংসতার জন্য এই ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। এর আগে ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ মাহমুদুল আলম।

সরকার দলীয় প্রার্থীরা নিজেদের কোন্দলের কারনে বিভিন্ন প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় নৌকা প্রতীক আশানুরুপ ফলাফল করতে পারেনি, অনেকটা ভরাডুবি লক্ষ্য করা গেছে নির্বাচনী ফলাফলে। নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন দুইজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। আর দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী এমপি রানা (ঘাটাইল) সমর্থিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়লাভ করেছেন।

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে সংগ্রামপুর ইউনিয়নে ৫ হাজার ৭০১ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আঃ রহিম মিয়া। তিনি আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমপি রানা (ঘাটাইল) সমর্থিত আনারস প্রতীক নিয়ে গিয়াস উদ্দিন বাবু পেয়েছেন ৫ হাজার ১১২ ভোট।

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে ধলাপাড়া ইউনিয়নে ৫ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এজহারুল ইসলাম মিঠু ভূইয়া। তিনি বিএনপি মনোনীত ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে মোঃ শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৩ ভোট।

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে সন্ধানপুর ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭৫৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শহিদুল ইসলাম শহীদ। তিনি বিএনপি মনোনীত ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী রুহুল ইসলাম রিপন পেয়েছেন ৩ হাজার ১৮৯ ভোট।

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নে ৬ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ একাব্বর আলী। তিনি চশমা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমপি রানা (ঘাটাইল) সমর্থিত আনারস প্রতীক নিয়ে এসকান্দর হক পেয়েছেন ৫ হাজার ৬২৫ ভোট।

 

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে রসুলপুর ইউনিয়নে ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এমদাদ সরকার। তিনি এমপি (ঘাটাইল) রানা সমর্থিত হয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শামছুল আলম পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৯০ ভোট।

(উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল.কম)/-