ঘাটাইলের ঐতিহাসিক ‘মাকড়াই যুদ্ধ’

১৬ আগস্ট, বেলা একটা পনের মিনিট। হানাদারদের প্রথম দল পরস্পর বেশ দূরত্ব রেখে সারিবদ্ধভাবে পশ্চিমে যাচ্ছে।

তারা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া নদীর ঘাটে হাকিম, হাবিব, গফুর, লোকমান ও হুমায়ুন কোম্পানীর হাতে আচমকা মার খেয়ে ঐ দিনের মতো নদী পার হওয়ার আশা ত্যাগ করে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।

আমরা তাদের এই পিছু হটার অপেক্ষাই করছিলাম। পনের-কুড়ি জনের প্রথম দল সামনে দিয়ে চলে গেল। তাদের মধ্যে কোন ভাবান্তর নেই।

এরপর শুরু হলো একেরপর এক হানাদারদের পশ্চিমে যাওয়া। এক দৃষ্টিতে হানাদারদের চলে যাওয়া লক্ষ্য করছি। উপযুক্ত সময়ের জন্য আষাঢ়ের ভেজা কাকের মতো নিশ্চল বসে আছি। বেশি অপেক্ষা করতে হলো না। আকাঙ্খিত সময় এসে গেল।

বেলা একটা কুড়ি মিনিটে বিশৃঙ্খল দৌড়া দৌড়ি করে পিছুতে থাকা পঞ্চাশজনের দলের উপর আচ্মকা আঘাত হানলাম।

এমন আকস্মিক হামলা হানাদাররা কল্পনাও করেনি, স্বপ্নেও ভাবেনি।

খোলা মাঠ। আড়াল নেয়ার কোন উপায় নেই, নড়া চড়ারও না।

সাইদুর, শামসু ও আমি গুলির তুবড়ি ছুটালাম। আমাদের ব্রাশফায়ারে হানাদাররা লুটিয়ে পড়ে। এরই মধ্যে দু-একজন মৃতদেহের আড়াল নিতে সক্ষম হয়। তারাই মাঝে মধ্যে দু-একটা গুলি ছুড়েছিল।

তবে তাদের অবস্থা খুবই প্রতিকূল। প্রতিরোধহীন মার খাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

পূবদিক থেকে হানাদাররা যখন আমাদের দিকে আসতে চেষ্টা করে, তখন আবার খোকা, কুদ্দুস, সেলিম তাদের উপর গুলি ছুড়ে।

আমার চাইনিজ এল.এম.জির চেইন শেষ হয়ে গেলে সাইদুরের ব্রিটিশ এল.এম.জি. নিয়ে গুলি চালাতে লাগলাম।

প্রতিটি মুহূর্ত তখন মূল্যবান। সাইদুর নতুন করে চেইন ভরে দিতে লাগল।

দ্বিতীয় চেইন শেষ হবার পর তৃতীয়বার শামসুর চাইনিজ স্টেনগান নিলাম। হানাদারদের দিক থেকে গুলি আসছে, তবে খুব কম।

তারা এমন এক বিভ্রান্তিকর ও ঘোলাটে অবস্থায় পড়েছে, আসল শত্রু কোন দিকে বা কোথা থেকে গুলি আসছে, তা ঠিক বুঝতে পারছিল না।

তৃতীয়বার চাইনিজ এল. এম. জি. নিয়ে গুলি ছোড়া শুরু করেছি। পঁচিশ-ত্রিশ রাউন্ড বেরিয়েও গেছে। এমন সময় চেইন আটকে গেল।

চেইন খুলে ঠিক করে আবার গুলি ছোড়া শুরু ছুড়লাম। দশ-বারো রাউন্ড গিয়ে আবার আটকে গেল। আবার চেইনের গুলি টিপে টিপে ঠিক করছিলাম।

সাইদুর, শামসু সামনে-ডানে-বামে বিরামহীন গুলি ছুুঁড়ে চলেছে। শেষ রাউন্ডটি ঠিক করতে যাবো, এমন সময় আমার এল.এম.জি. একটু নড়ে উঠল।

হাতে যেন কিসের স্পর্শ অনুভব করলাম। পায়েও একটু তাপ লাগল। সেকেন্ডে এতসব ঘটে গেল।

কিছু বুঝতে পারলাম না। আবার এল.এম.জি. চালাতে গেলাম। ডান হাত থেকে ফিন্কি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এল।

রক্তে চোখ মুখ ঢেকে গেল। এত রক্ত চোখে মুখে লেগেছে যে, কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। বাম হাত দিয়ে চোখ মুখ মুছে, ক্ষতস্থান চেপে ধরে আবার এল.এম.জি-র ট্রিগার চেপে ধরলাম।

কিন্তু না, মাত্র কয়েক রাউন্ড চলার পর আবার আটকে গেল।

রক্তে এল.এম.জি-র বাঁট ভেসে গেছে। আমার শরীরে যে এত রক্ত ছিল নিজেই জানতাম না।

শামুস, সাইদুর বারবার আমাকে পিছিয়ে যেতে অনুরোধ করতে লাগল।

“হ্যাঁ, আমিও তাই ভাবছি। শামসু, তোর গানটা দে। তুই এল.এম.জি-টা নিয়ে আয়।”

দশ-বারো হাত ঢাল বেয়ে নিচে নেমে এলাম।

শামসু প্রথমে নিচু হয়ে এল.এম.জি মাটি থেকে তুলে গড়িয়ে নিচে নেমে এল।

আমার গায়ে গুলি লাগার পর হানাদারদের দিক থেকে আর একটাও গুলি আসেনি।

আমরা নিরাপদে সরে গেলাম। সেখানে মাত্র দশমিনিট যুদ্ধ হয়।

আমাদের তিনজনের গুলিতেই ত্রিশজন খান সেনা নিহত এবং আহত হয়।

ডানে বাঁয়ে খোকা, কুদ্দুস, সেলিম, দুলাল, হালিম, আমজাদ ও কাশেমও হানাদারদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে।

এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর ক্ষতির মধ্যে আমি গুরুতর আহত হই।

হানাদারদের একটি গুলি আমার এল. এম. জি-র ফোর সাইট নবে লেগে নব ভেঙে ইন্সপ্লিনটার হাতের তালু ভেদ করে যায় ও বুলেট হাঁটুর ইঞ্চিখানেক উপরে আঘাত করে।

মাকড়াই-ধলাপড়ায় আটকে-থাকা হানাদাররা তাদের দূরাবস্থা ও লড়াইয়ের কথা সম্ভবত ঘাটাইল ঘাঁটিতে জানিয়েছিল।

ফলে তাদের উদ্ধারে ঘাটাইল থেকে একটি কলাম রওনা হয়।

কমান্ডার বেনুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তার উপর ওৎঁ পেতে ছিল।

ক্যাপ্টেন বেনুর কোম্পানীর হাতেম, আসালত, ছোট ফজলুর হাতে চাইনিজ রাইফেল আর অন্যদের কাছে স্টেনগান।

হানাদাররা কমান্ডার বেনুর একেবারে কাছে এসে গেল।

ক্যাপ্টেন বেনু স্টেনগানের ট্রিগার টিপে। কিন্তু ফায়ার হয় না। নিরুপায় বেনু উচ্চস্বরে ‘ফায়ার’ ‘ফায়ার’ বলে চিৎকার করে।

মুক্তিযোদ্ধারা গুলি চালাবার আগেই হানাদাররা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে।

হাতেম সহ ছ-সাতজন মুক্তিযোদ্ধা হানাদারদের এত কাছাকাছি ছিল যে, তাদের পক্ষে সহজে পিছিয়ে আসাও সম্ভব ছিল না।

প্রথম আঘাত হানতে পারলে লড়াই মুক্তিবাহিনীর অনুকূলে চলে আসত।

কমান্ডার বেনু তার সহযোদ্ধাদের পিছিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু হাতেম সে নির্দেশ শুনতে পায় না। ঝোঁপের আড়াল থেকে হাতেম হানাদারদের উপর গুলি ছুড়ছিল।

হাতেমের একার গুলিতেই চারজন খান সেনা নিহত ও সাতজন আহত হয়। তাঁর চাইনিজ রাইফেলের শেষ গুলিটি ছুড়তে সে যখন উদ্যত্ব, তখন দুশমনদের তিনটি গুলি তার গায়ে লাগে, সেখানেই সে পড়ে যায়।

হানাদাররা তাকে খোঁজাখুঁজি করে কিন্তু পায় না।

পিছিয়ে যাবার নির্দেশ পেয়ে সব মুক্তিযোদ্ধাই নিরাপদে সরে পড়ে।

কেবল হাতেম আহত ও ফজলু মূল দল থেকে ছিটকে পড়ে।

ফজলু এদিক-ওদিক ঘুরাফেরা করে হালিম ও দুলালের সাথে মিলে নিরাপদ স্থানে চলে আসে। যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে থাকে শুধু একা আহত হাতেম।

হানাদাররা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে গেলে স্বেচ্ছাসেবকরা হাতেমকে সেহরাবাড়ীতে নিয়ে আসে।

হাতেমের গায়ে গুলি লেগেছে এবং সে পিছনে পড়ে আছে, কমান্ডার বেনু এর বিন্দুবিসর্গও জানে না বা জানতে পারেনি।

তার ধারণা, পিছানোর নির্দেশের সাথে সাথে সব যোদ্ধা নিরাপদে পিছিয়ে গেছে।

সেহরাবাড়ী আনা হলে হাতেমের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়, কিন্তু অবস্থা প্রতি মুহূর্তে অবনতির দিকে যেতে থাকে।

হাতেম বলতে থাকে, “আমি বাঁচব না। মরার আগে আমার নেতা কাদের ভাইকে দেখতে চাই। তিনি আমাকে নানাভাবে পরীক্ষা করে মুক্তিবাহিনীতে ভর্তি করেছিলেন। তাকে বলে যেতে চাই, তাঁর বিশ্বাস আমি রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”

তার যন্ত্রণা যত বাড়ে, একই কথা সে বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে, “আমি কাদের ভাইকে দেখতে চাই। এটাই আমার জীবনের শেষ আশা, শেষ ইচ্ছা।”

তিনটি গুলি হাতেমের গায়ে লেগেছে। তিনটি গুলির দুটি ডান কাঁধ ভেদ করে গেছে। একটি বুকের সামান্য নিচে বিদ্ধ হয়ে পিছনে পিঠের চাড়ার সামান্য নিচে জ্বলজ্বল করছিল।

হাতেমের আহত হবার খবর আমার কাছে অনেক দেরিতে পৌঁছে। হাত-পায়ে দারুণ আঘাত নিয়েও হাতেমকে দেখতে যাই।

কিন্তু প্রিয় শিষ্যকে দেখা আমার ভাগ্যে হয় না। দুর্ভাগ্য, আমার পৌছানোর আগেই হাতেম আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে শাহাদৎ বরণ করে।

প্রিয় যোদ্ধা হাতেম সম্পর্কে দু’কথা না বললেই নয়।

যে কঠোর কৃচ্ছসাধনের মাধ্যমে সে মুক্তিবাহিনীতে ভর্তি হয়েছিল, সে এক অনবদ্য কাহিনী।

হাতেম যখন প্রথম মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে আসে, তখন একজন কমান্ডার তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে বিদায় করে দেয়।

এতে হাতেম ক্ষুব্ধ হয়ে কমান্ডারের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এ অপরাধের শাস্তি স্বরূপ তাকে কঠোর প্রহার করা হয়। এতে তার সমস্ত শরীর জখম হয়।

পরে চিকিৎসার জন্য টাকা দিয়ে বাড়ী পাঠানো হয়। সুস্থ হয়ে ফিরে এসে সে বলে, “আমাকে মুক্তিবাহিনীতে নিতেই হবে। অন্যথা আমি এখান থেকে যাব না।”

এই মানসিক দৃঢ়তা দেখে তাকে ভর্তি করে নিই এবং প্রথম-প্রথম তাকে কঠিন-কঠিন কাজ দিতে থাকি।

হাতেমের তাতে অনীহা নেই, ক্লান্তি নেই কাজ যত কঠিনই হোক না কেন, তাতে তার উৎসাহ ও উদ্দীপনার অভাব নেই।

সব কাজ সে সমান দক্ষতা ও নৈপুণ্যের সাথে করে যেতে থাকে। এটা দেখে, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই তাকে আপন করে নেই।

গরিব-বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান হাতেম দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন তুচ্ছ করেছে, বাংলার জনগণ কোনদিন হাতেমের ত্যাগের সব কথা জানতে পারবে কিনা জানি না।

তবে টাংগাইলের হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা, স্বেচ্ছাসেবক ও জনগণের কাছে হাতেম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান হাতেম বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে যে অবদান রেখে গেল, তা কি ভবিষ্যতে আমরা তুলে ধরতে পারবো? মনে রাখতে পারবো? না ভুলে যাব?

গুলিবিদ্ধ হয়ে মাকড়াই থেকে মাইলখানেক দক্ষিণে একটি বাইদ পার হয়ে একটি চালায় এলাম।

তখনও হাত-পা থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছে। দুলাল ও খোকা নিজেদের কাপড় ছিঁড়ে খুব শক্ত করে হাত বেঁধে দিল। পায়ের দিকেও রক্ত ঝরছিল। আস্তে আস্তে প্যান্ট উপরে তুলে পায়ের জমাট-বাঁধা রক্ত মুছে, দেখলাম, হাঁটুর উপর একটি ক্ষত।

ক্ষত থেকে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছিল। ক্ষতস্থানটি ভাল করে ধুয়ে দেখলাম, গুলি বেরিয়ে যায়নি, ভিতরে রয়ে গেছে।

আস্তে আস্তে বামহাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল ক্ষতের ভিতর ঢুকিয়ে দিলাম।

ইঞ্চি খানেক ঢুকতেই শক্ত অনুভব করলাম। আঙুল বের করে, ক্ষত স্থানের দু’পাশে জোরে জোরে বারবার চাপ দিতেই বুলেট বেরিয়ে এল।

পায়ের ক্ষতে যখন আঙুল ঢুকিয়ে দেখছিলাম এবং টিপে টিপে বুলেট বের করছিলাম, তখন খুব একটা ব্যথা পাইনি।

আমার অবস্থা দেখে বাসেদ সিদ্দিকীর ছেলে সেলিম সিদ্দিকী বুক চাপড়ে কাঁদছিল।

তার এক কথা, ‘হায় হায়! আমাদের এখন কী হবে?’ তাকে বারবার বললাম, “আমার কিছু হয়নি, দেখ আমি ঠিক আছি।”

এরপরও তার কান্না থামে না। অন্যদের চোখেও বেদনাশ্রু।

প্যান্ট পড়তে খুব কষ্ট হচ্ছিল। জীবনে প্রথম পঁয়তাল্লিশ টাকার টেট্রনের প্যান্ট আমাকে ত্যাগ করতে হল।

গ্রামের এক লোকের পুরানো মশারীর মতো লুঙ্গি পাঁচ টাকায় কিনে প্যান্ট খুলে ফেললাম। এরপর ঐ প্যান্ট আর কখনও ব্যবহার করিনি বা করতে পারিনি।

দেশ স্বাধীন হলে শার্ট, প্যান্ট ও হাত বাধা রক্তাক্ত রুমাল মা ঢাকা জাদুঘরে দিয়েছিলেন।

ঐ অবস্থায়ও ধলাপাড়ার প্রতিরক্ষা-কমান্ডার মেজর হাবিব ও মেজর হাকিমকে মাকড়াইয়ের যুদ্ধের সংবাদ দিয়ে একটি পত্র দিলাম।

‘তোমরা নদী পেরিয়ে মাকড়াই পর্যন্ত যাও। শত্রুর লাশ ও অস্ত্রশস্ত্র পড়ে আছে। আমার হাতে চোট লাগায় নিজে লিখতে পারলাম না। বাম হাতে স্বাক্ষর করছি। তাই স্বাক্ষর হয়তো অন্য রকম হতে পারে।’

পত্র নিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা ধলাপাড়া গেল। এদিকে আমি মাকড়াই ও ধলাপাড়া বাঁয়ে রেখে চম্বলতলার স্বেচ্ছাসেবক তুলাদের বাড়ীতে গেলাম।

তখন আমার কেবলই ভয় হচ্ছিল, কখন অচল হয়ে পড়ব। তাই সচল থাকতে থাকতে কিছুটা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে চাইলাম।

হাত-পায়ের ক্ষত নিয়ে প্রায় দু’মাইল হেঁটে তুলাদের বাড়ীতে যেতেই জ্বর এসে গেল। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে মাথাও ঘুরছিল। বমি-বমি ভাব শুরু হলো।

তুলাদের কাচারি ঘরে মস্ত বড় টেবিলের ওপর ধরাধরি করে শুইয়ে দিল।

টেবিলের উপর শুয়ে মনে হলো, সবকিছু ঘুরছে। আমি অতলে তলিয়ে যাচ্ছি। সারা শরীর যেন দাউদাউ করে জ্বলছে।

অন্ধকার রাতে জোনাকি পোকার মতো আলোর ঝিলিক দেখতে দেখতে কখন অচেতন হয়ে পড়লাম।

(লেখক : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ঘাটাইল ডট কম)/-