২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

‘ঘাটাইলের এমপি আতাউর রহমান খানের সাক্ষাৎকার’

এপ্রি ৫, ২০২০

আতাউর রহমান খান একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও একাদশ জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি টাঙ্গাইল-৩ আসন থেকে ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে ৩ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখে একাদশ সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথবাক্য পাঠ করেন।

আতাউর রহমান খান ১৯৪১ সালের ৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের বাগুন্তা গ্রামে প্রখ্যাত খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল হালিম খান ও মাতার নাম ফাতেমা আক্তার খানম।

আতাউর রহমান খান ব্যাংকে চাকুরীর মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন ও সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা হত্যা মামলায় কারাবরণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রানাকে বাদ দিয়ে তার বাবা আতাউর রহমান খানকে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়।

নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদকে পরাজিত করে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আতাউর রহমান খান ব্যক্তিগত জীবনে ফাতেমা রহমান খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুত্র আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল-৩ আসন থেকে নবম ও দশম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। আতাউরের ভাই শামসুর রহমান খান শাহজাহান একই আসন থেকে সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তার চাচাত ভাই লুৎফর রহমান খান আজাদ একই আসনে বিএনপির মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আতাউর রহমান খান এক সাক্ষাৎকারে সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কমের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি রাসেল খান।

নিম্নে তার সাক্ষাৎকারটি ঘাটাইল ডট কম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

ঘাটাইল ডট কম: চাচা কেমন আছেন?

আতাউর রহমান খান: আল্লাহর রহমতে আছি ভালোই।

ঘাটাইল ডট কম: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আপনার আপনার অনুভূতি কি?

আতাউর রহমান: আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি যে, বঙ্গবন্ধুর মতো এত বড় মহান নেতা আমরা পেয়েছিলাম। এটা আল্লাহর বিশেষ রহমত। উনি সারাজীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন, বাংলার স্বাধীনতার জন্য চিন্তা করেছেন। পাকিস্তানের শাসন শোষণ থেকে আমাদের মুক্ত করার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন এবং তারই নেতৃত্বে আমরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি।

ঘাটাইল ডট কম: আপনার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় কখনো কি বঙ্গবন্ধুর সাথে সরাসরি দেখা বা কথা হয়েছিল?

আতাউর রহমান খান: বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হয়েছে অনেকবার। সরাসরি কথা হয়নি তবে দেখা হয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি ঘাটাইলের হামিদপুরে ১৯৫৩ সালে। তখন একটা পথসভা ছিল। বঙ্গবন্ধু ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেব এসেছিলেন। আমার অগ্রজ শামসুর রহমান খান সাজাহান বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বক্তব্য শুনে সোহরাওয়ার্দী সাহেব বললেন – ‘Mujib! mujib ! pick up that boy’। বঙ্গবন্ধু এরপর থেকেই সাজাহান ভাইকে রাজনীতিতে শীষ্য বানিয়ে নিলেন।

সেদিন বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখবার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। এছাড়া তাকে দেখেছি টাংগাইল শ্রমিক অফিসে। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রথম জেলা সফর করেন টাংগাইল। বিন্দুবাসিনী স্কুল মাঠে তিনি যখন আসলেন তখনও তাকে দেখেছি, তবে ব্যক্তিগত কোন আলাপ হয়নি।

ঘাটাইল ডট কম: আপনাদের বাসায় কখনো এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু?

আতাউর রহমান খান: ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের পর আতাউর রহমান খান মুখ্যমন্ত্রী হলেন। তখন এম. এল. এ দের সাথে বঙ্গবন্ধু দেখা করতে এসেছিলেন। তখন তিনি আতাউর রহমানের সাথে আমাদের বাসায় এসেছিলেন।

ঘাটাইল ডট কম: বঙ্গবন্ধু দুটি আত্নজীবনীমূলক বই লিখে গেছেন। অসমাপ্ত আত্নজীবনী আর কারাগারের রোজনামচা। এ দুটি বই ইতিহাসকে জানতে কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন?

আতাউর রহমান খান: এ দুটি বই কেউ পাঠ করে তবে সে জানতে পারবে বঙ্গবন্ধু কত কষ্ট করেছেন এই দেশের মানুষের জন্য। তিনি যখন সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সাথে করাচী দেখা করতে গেলেন তার পকেটে ছিল মাত্র দেড় টাকা। ভাবা যায়! তিনি এমন সাহসী ছিলেন! ঝুঁকি নিতে ভয় পেতেন না। সেদিন যদি সোহরাওয়ার্দী সাথে দেখা না হতো তাহলে তিনি কিভাবে ফেরত আসতেন! এই তথ্য আমরা অসমাপ্ত আত্নজীবনী পাঠ করে জানতে পারি।

তিনি প্রত্যকটি সাব-ডিভিশনে সফর করেছেন। সিলেটে যখন গণভোট হলো সেখানেও বিরাট ভূমিকা রেখেছেন। এই দুটি বই পাঠ করলে আমরা তার বন্দিজীবন সম্পর্কে জানতে পারি। একজন সৎ রাজনীতিবিদ হয়ে উঠার শিক্ষা লাভ করতে পারি।

সর্বোপরি একজন পাঠকের ইতিহাস অনুসন্ধানে বই দুটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অসমাপ্ত আত্নজীবনী বইটি ইতিমধ্যে চীনা, ফরাসী, হিন্দি ও ইংরেজী ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ বইটি হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।

ঘাটাইল ডট কম: বঙ্গবন্ধু ঘাটাইল এসেছিলেন কত সালে?

আতাউর রহমান খান: বঙ্গবন্ধু প্রথম ঘাটাইলে আসেন ১৯৫৩ সালে। এরপর আরো কয়েকবার এসেছিলেন। সর্বশেষ আসেন ১৯৭৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে।

ঘাটাইল ডট কম: আপনার বড় ভাই শামসুর রহমান খান সাজাহান, যিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং আমৃত্যু টাংগাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। বঙ্গবন্ধু ও তাকে নিয়ে যদি একটা স্মৃতিচারণা করেন টাংগাইলের তরুণ প্রজন্মের জন্য।

আতাউর রহমান খান: স্মৃতি তো অনেক আছে। বঙ্গবন্ধু একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন। তিনি এত সুন্দরভাবে মানুষের সাথে মিশতে পারতেন যা অভাবনীয়। তিনি প্রত্যেককে নাম ডাকতেন। সাজাহান ভাইকে সাজাহান বলেই ডাকতেন। নেতা ও কর্মীর মধ্যে এত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক এখন আর দেখা যায় না।

আওয়ামী লীগ যখন রিভাইভ করলো তখন সাজাহান ভাইদেরকে বঙ্গবন্ধু ডাকলেন। তখন বঙ্গবন্ধু আলফা ইন্সুরেন্সে চাকরি করতেন। এর অফিসের দোতলায় বঙ্গবন্ধু বসেছিলেন। সেই দৃশ্য একটা বিরল দৃশ্য।

সাজাহান ভাই বললেন, ‘মুজিব ভাই, ওকে চিনেন? ‘ বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, ‘এই তুই আমাকে খাওয়াইছিলি না তোদের বাসায়। ‘ এই যে তার মেমোরিটা, এটা অমূল্য জিনিস। যেকোন কর্মীকে একবার দেখলেই মনে রাখতে পারতেন। এ কোয়ালিটি সাধারণ নেতার মধ্যে দেখা যায় না।

ঘাটাইল ডট কম: আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে আপনার প্রত্যাশা ও উপদেশ কি?

আতাউর রহমান খান: আজকের যে তরুণ প্রজন্ম, যতনা তারা রাজনিতিক তার চাইতে তারা টাকার পেছনে ছুটে বেশি। ছাত্রদের পড়ালেখাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। everyone is after money, সেটা ইথিকাল হোক বা আনইথিকাল ওয়েতে হোক। তাদের বিবেকবোধটা টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। they are sold to money।

ঘাটাইল ডট কম: এর পেছনে কারণ কী থাকতে পারে এবং উত্তরণের উপায় কী?

আতাউর রহমান খান: এইটা পরিবারের কাছ থেকে শিখতে হবে। আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমরা যদি সকল ক্ষেত্রে আমাদের নৈতিকতা ঠিক রাখতে পারি সেটাই হচ্ছে প্রকৃত শিক্ষা। ন্যায়কে ন্যায় জানতে হবে, অন্যায়কে অন্যায় জানতে হবে। সে আমার স্বজনই হোক, সে আমার বিরোধী দলই হোক। সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু অন্যকে বললে হবে না, নিজেও শতভাগ সৎ হতে হবে।

ঘাটাইল ডট কম: সর্বশেষ প্রশ্ন আপনার কাছে । ঘাটাইলকে আপনি একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান, সে বিষয়ে আপনার পরিকল্পনাটা কী?

আতাউর রহমান খান: কথা হচ্ছে কী! আমাদের রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিহিংসা বর্জন করতে হবে। আমি যখন এমপি হলাম, আমি কিন্তু সকলের প্রতিনিধি হলাম। সকলেই আমার কাছে আসবে। অভাবী, গরীব-দুঃখী আওয়ামী লীগে যেমন বিএনপি বা অন্য দলেও তেমন আছে। তাদের মধ্যে যারা সক্রিয় রাজনীতির বাইরে তাদের প্রতি কোনভাবেই যেন অবিচার না করা হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। তাদের সমতার ভিত্তিতে দেখতে হবে এবং সকলকে একতাবদ্ধ করে ঘাটাইলকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মানুষ যেন বুঝতে পারে দলমত নির্বিশেষে আমরা সবার প্রতিনিধি। তাহলেই ঘাটাইল একটি মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

টাঙ্গাইলের মানুষদের একটা সুনাম আছে যে, বিরোধী দল-সরকারি দল এক টেবিলে চা খেতে পারে। আমরাও সেই পরিবেশটাই চাই।

ঘাটাইল ডট কম: ধন্যবাদ চাচা আপনাকে।

আতাউর রহমান খান: তোমাকে স্বাগতম ও ধন্যবাদ। আমি তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Adsense

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

Divi Park

পঞ্জিকা

June 2020
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Adsense