ঘাটাইলের ইউপি নির্বাচনে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার বিচার চায় পরিবার ও গ্রামবাসী

‘বাবা মারা যাওয়ার সময় ঘরে ৫ কেজি চালও রেখে যায়নি। একমাত্র উপার্জনক্ষম আমার বাবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে প্রাণ দিতে হলো। এখন কীভাবে চলবে আমাদের সংসার, আমার বাবাকে যারা মেরেছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার বিচার চাই।’ অশ্রুসজল কণ্ঠে এ কথাগুলো বলছিলেন, সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা আ. মালেকের বড় মেয়ে তাহমিনা আক্তার (২৭)। পাশে নির্বাক বসে আছে তার ছোট ভাই মোবাখখারুল ইসলাম মনির (১৯) ও তার মা মর্জিনা (৪০)।

গত ২৯ মার্চ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের নির্বাচনী সহিংসতায় মালেক গুলিতে নিহত হন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীও ক্ষুব্ধ। মেনে নিতে পারছেন না কেউই। নিহত মালেকের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে মেয়ে দুটির বিয়ে হয়েছে। ছেলেটি ভূঞাপুরে একটি কলেজে অনার্সের শিক্ষার্থী। একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা নিহতের বিষয়টি যেন মেনে নিতেই পারছেন না। বাবার শোকে ছেলেটি কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলে শুধু নির্বাক তাকিয়ে থাকে।

এদিকে বুধবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের আহ্বানে মামলার ভয়ে পালিয়ে থাকা গ্রামবাসী বাড়ি ফিরেছেন। তাদের মাঝে খানিকটা স্বস্তি দেখা গেলেও রয়েছে হতাশার ছাপ। রাতের আঁধারে ব্যালটে সিল মারার ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে যুবদল নেতা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। অথচ নিহত মালেককে আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এরপর থেকে পুরুষশূন্য হয়ে যায় এলাকা।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান ঘাটাইল এসে স্থানীয় প্রশাসনকে কোনো লোককে হয়রানি না করার নির্দেশনা দেন। তাই পুলিশ গুপ্তবৃন্দাবনসহ আশপাশে মাইকিং করে লোকজনকে বাড়ি ফেরার আহ্বান জানালে বুধবার তারা একে একে গুপ্তবৃন্দাবন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্রামবাসী বলেন, ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগের রাত আনুমানিক ৩টা। বিদ্যুৎবিহীন ঘুটঘুটে অন্ধকার। অন্যান্য কেন্দ্রের চেয়ে কম লোক ছিল তখন। এ সুযোগে সাদা ও কালো রঙের দুটি মাইক্রো (হায়েস) গাড়ি ঢুকে ঘরে। বিষয়টি বিভিন্নভাবে জানার পর একে একে লোকসমাগম ঘটে। আর নিহত মালেক উঁকি দিয়ে ভেতরে সিল মারার ঘটনাটি দেখে ঘরের বাইরের ছিটকিনি আটকে দেয়। খুলতে বললে না খোলায় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা জানালা দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মালেক।

নির্বাচনের আগের রাতের ভয়াবহ ঘটনার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, আমরা অনেকটা বলির পাঠা। সশস্ত্র ক্যাডারদের মহড়ার ঘটনাটি আমাদের স্মরণীয় রাত। এ রকম পরিস্থিতি আর কখনো দেখিনি।

(নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাইল.কম)/-