ঘাটাইলের আলোক হেলথ কেয়ারে ভুল চিকিৎসা ও রিপোর্টে হয়রানী

স্বাস্থ্য সেবায় ঢাকার মিরপুর কেন্দ্রিক সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান আলোক হেলথ্ কেয়ার লিমিটেড এর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শাখায় ভুল চিকিৎসায়, ভুল রিপোর্ট দেয়ায় হয়রানীতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের রোগ নিরাময় তো দূরের কথা, এখানে এসে তারা আরো নানা ভোগান্তি ও জটিলতার বেড়াজালে আটকা পড়ছেন। অনেক সময় রোগীর শারীরিক অবস্থাকে ভুলভাবে আরও জটিল করে তুলে ধরে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগ ঘাটাইলডটকমের কাছে এসেছে।

জানা গেছে, এই ক্লিনিকে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও নেই দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান। প্রায় সময়ই চিকিৎসার নামে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার ভুল রিপোর্টে রোগিদেরকে জর্জরিত করে ফেলছে। এমনকি ভুল রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীদের তাদেরই ঢাকাস্থ ক্লিনিকে হস্তান্তর করা হয়। ফলে অসহায় রোগীরা আর্থিক ক্ষতি হয়রানিতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পরছেন। এভাবে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নামে মোটা অংকের টাকা গুনতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে রোগীর পরিবার।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের মো. ফরিদ হোসেন বিদেশ গমনের উদ্দেশ্যে এইচবিএস পরীক্ষার জন্য গত ৪ নভেম্বর ঘাটাইলের আলোক হেলথ্ কেয়ারে আসেন। পরীক্ষার রিপোর্টে তার এইচবিএস ধরা পড়ে। এইচবিএস রোগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য একই ক্লিনিকে পুনরায় টাকা জমা দিয়ে পরীক্ষা করান। দ্বিতীয় বারও তার এইচবিএস ধরা পড়ে। আতংকিত হয়ে পরদিন সকালে তিনি ময়মনসিংহ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে এইচবিএস রোগ পরীক্ষা করান। তাদের সে সব পরীক্ষা রিপোর্টে কোথাও এইচবিএস রোগ ধরা পড়েনি।

অপরদিকে, একই ইউনিয়নের লাহিড়ী বাড়ি গ্রামের শবনম মোস্তারী গত ৬ সেপ্টেম্বর ৬ মাসের গর্ভবতী হয়ে আলোক হেলথ্ কেয়ারে আসেন। চিকিৎসক তাকে আল্ট্রা করার পরামর্শ দেন। আল্ট্রা রিপোর্ট অনুযায়ী গর্ভে পানির পরিমান ১৩.১১ সিএম। এ রিপোর্ট দেখে ১৫ দিন পর পুনরায় আল্ট্রা করতে বলেন। যথারীতি তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে পুনরায় আল্ট্রা করেন। এসময় রিপোর্টে পানির পরিমান ৯.৬৩ সিএম আসে। চিকিৎসক তখন রক্সাডেক্স ইনজেকশন ব্যবহার করতে বলেন এবং এক সপ্তাহ পর আবার আল্ট্রা করতে বলেন। পরবর্তী আল্ট্রা রিপোর্টে পানির পরিমান ৭.৮৩ সিএম আসে। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন। কুমুদিনীতে আল্ট্রা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রিপোর্টে পর্যাপ্ত পানি আছে, এক্ষেত্রে গর্ভবতীর কোন সমস্যা নেই বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর চিকিৎসকরা জানান। এ অবস্থায় দু’চিকিৎসকের দুই রকম রিপোর্ট হওয়াতে, তৃতীয়বার অপর একটি হাসপাতালে আল্ট্রা করানো গর্ভবতীকে। সে পরীক্ষা রিপোর্টে পানির পরিমান সঠিক অবস্থায় রয়েছে বলে জানা যায়। এ অবস্থায় আলোক হেলথ্ কেয়ারের ভুল চিকিৎসা এবং ভুল রিপোর্টের কারণে গর্ভের বাচ্চার নার্ভ উঠানামা করায় রোগীকে চরম খেসারত দিতে হয়।

পরবর্তীতে গত ২৫ অক্টোবর গর্ভবতী পেটে ব্যাথা অনুভব করলে তাঁকে ঘাটাইলের মেডিকেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে সিজার করার মাধ্যমে একটি সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দেন শবনম মোস্তারী।

এ বিষয়ে শবনম মোস্তারীর স্বামী ফারুক ভুঁইয়া ঘাটাইলডটকমের কাছে অভিযোগে বলেন, সে সময় এক রাতে আলোক হেলথ কেয়ারের ম্যানেজার জাকির হোসেন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দুইজন লোককে আমার বাসায় পাঠান ও পরে তিনিও আসেন এবং পরের দিন ক্লিনিকে যেতে বলেন। তার কথা মতো ক্লিনিকে গেলে জাকির হোসেন আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন। এমনকি বলেন যে, আমাদের ভালো না লাগলে আমাদের কাছে আসবেন না। আমি এহেন আচরণে অবাক হই এবং দ্রুত বাসায় চলে আসি।তারপরও তারা আমাকে নানাভাবে হেয় করার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আলোক হেলথ কেয়ারের ভূলের কারনে আমার ও আমার স্ত্রী সন্তানের জীবন প্রায় অনিশ্চিয়তার মধ্যে পরে গিয়েছিল। আল্লাহর দরবারে লক্ষকোটি শুকরিয়া যে মহান আল্লাহ আমার পুত্র সন্তান ও স্ত্রীকে সুস্থ করে দিয়েছেন। অন্য কেউ যেন এমন অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অসীম দুর্ভোগে না পড়েন সে জন্য দোয়া করেন।

এভাবে দিনের পর দিন আলোক হেলথ্ কেয়ারের ভুল রিপোর্টে অসহায় রোগীরা প্রতারিত হলেও কোন ব্যবস্থা না নেয়া ও কেউ প্রতিবাদ না করায় বাড়ছে হয়রানীর শিকার হওয়া রোগীর সংখ্যা। এতে ঘাটাইল শহরের আলোক হেলথ্ কেয়ার নামের স্বাস্থ্য সেবার এ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ রোগীর জন্য হয়রানীর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব অন্যান্য বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর উপরও পরছে।

এ বিষয়ে আলোক হেলথ্ কেয়ার ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, চিকিৎসক যেভাবে রিপোর্ট দিয়েছেন আমরা সেভাবে করেছি। আমার মনে হয় এতে কোন প্রকার ভুল হয়নি।

এবিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে আলোক হেলথ্ কেয়ারের ঘাটাইলে পঞ্চম শাখার পরিচালক বশির আহমেদ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-