গোপালপুরে মার্বেল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোরকে গলা কেটে হত্যা

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কিশোরদের মধ্যে মার্বেল খেলাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার (১৬ নভেম্বর) উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের বন্দে হাদিরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক কিশোরকে আটক করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।

নিহত কিশোর মোঃ শামিম (৬) গোপালপুর উপজেলার বন্দে হাদিরা গ্রামের মোঃ হাবিব মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আটক হয়েছে ঘাতক মোঃ সুজন (১০)। সে একই এলাকার শামশুল হকের ছেলে।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় , গতকাল শনিবার দুপুরে নিহত শামীম ও আসামী সুজন দুজন মার্বেল দিয়ে খেলতে যায়। এই খেলাকে কেন্দ্র করে একে অপর জনকে ব্লেড বা ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে দাবি নিহতের পরিবার সদস্যদের।

নিহত শামীমের বাবা হাবিব মিয়া জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোর বেলায় পায়ে হেটে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ধনবাড়ীতে দিনমজুর হিসেবে কাজে যোগদান করি। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে শামীমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না খবরে রাত বারোটা পর্যন্ত পাশেপাশের গ্রামসহ নিজ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। আজ রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই ছেলে হারানোর সংবাদ জানিয়ে মাইকিং করতে থাকি। বেলা দশটার দিকে খবর আাসে আমার শামীম বাবা লাশ হয়ে ধানক্ষেতে পড়ে আছে।

শামীমের মা খাদিজা বলেন, শনিবার সকাল ৯টার দিকে সুজনের সাথে বাড়ির পাশেই মার্বেল খেলে। তারপর দোকান থেকে কিছু কিনে খাবে বলে দশটি টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ছেলে বাড়ি না ফেরার চিন্তায় হন্য হয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। আজ রবিবার সকাল দশটার দিকে বাড়ি থেকে অর্ধকিলো দূরে, চকের ভিতরে কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দ শুনে ধানক্ষেতে আমার কলিজার টুকরা শামীম বাবাজিকে লাশ অবস্থায় খুঁজে পাই।

থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, খবরটি শুনেই পুলিশের দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। নিহত শামীমের মার্বেল খেলার সাথী সুজনকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে সে স্বীকার করে, মার্বেল খেলা নিয়ে ঝগড়ার জেরে গ্রামের পাশে এক শ্যালোমেশিন ঘরে ব্লেড দিয়ে শামিমকে গাল, মুখ এবং গলা কেটে হত্যা করার পর চকের ভিতর ধান ক্ষেতে ফেলে আসে। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় খুনি শিশু সুজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

(সোহেল রানা, ঘাটাইলডটকম)/-