গোপনে দেশ ছেড়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য

গোপনে দেশ ছাড়লেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক, সাংবাদিক পিনাকী ভট্টাচার্য। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ফ্রান্সের প্যারিসে থিতু হয়েছেন বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন তিনি।

পিনাকী ভট্টাচার্যর ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, আমি দেশ ছেড়েছি ২০১৯ এর জানুয়ারীর শুরুতে। এক বছর পার হয়ে গেলো। কয়েকটা কারণে দেশ ছাড়তেই হলো। প্রথম কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বর্ডারগুলোতে আমার দেশ ছাড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিলো। আর দ্বিতীয় কারণ আমার আত্মগোপনে থাকা ক্রমশই দুঃসাধ্য হয়ে উঠছিলো। থাকার জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছিলো। কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টার পরে আমি যেভাবেই হোক ব্যাংককে পৌঁছাতে পারি। ব্যাংককে মাস দুয়েক ছিলাম। তারপরে মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্যারিসে আসি।

তিনি বলেন, প্যারিসে আসার পিছনে কারণ হচ্ছে আমাকে ফরাসি একটি মানবাধিকার সংগঠন সর্বতোভাবে নিরাপদে প্যারিসে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিলো। আমার বন্ধুরা ব্রাসেলসে বিকল্প চিন্তা করে রেখেছিলো, কারণ সেখানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) এর অফিস, আমিই ইউয়ের সাথে হয়তো কিছু কাজ করতে পারবো, তাদেরকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা সময়ে ব্রিফ করতে পারবো সেই সব চিন্তা ছিলো। কিন্তু আমি ফ্রান্সের এই শহরটাকে ভালোবাসি। আমার ভালোবাসার শহর তিনটা, বগুড়া, রাজশাহী আর প্যারিস। তাই আমি নির্বাসিত জীবনের জন্য প্রিয় শহর প্যারিসকেই বেছে নিয়েছিলাম।

আমি দেশের বাইরে এসে চুপ করে বসে থাকিনি। ব্যাংককেই আমি প্রথম বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে নৈশ নির্বাচনের কারচুপি নিয়ে অ্যানফ্রেলের অফিসে ২৭ টা মানবাধিকার ও সংবাদ সংস্থার সামনে ব্রিফিং করি। আমি প্যারিস থেকেও কাজ করছি অ্যানফ্রেলের সাথে।

তিনি জানান, আমার প্যারিসে থিতু হতে সময় লেগেছে। আমি ফরাসি সরকারের পার্মানেন্ট রেসিডেন্স ও ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছি মাস দুয়েক আগে। যদিও চাকরি করছিনা, এখন করতেও পারবোনা। কারণ আমি এর আগেই সর্বোর্ন ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ তে ভর্তি হয়েছিলাম। এমবিএ টা শেষ হলে ঠিক কী করবো জানিনা, তবে পিএইচডি করার ইচ্ছা আছে। ইউনিভার্সিটির পড়াশোনার পাশাপাশি ফরাসি ভাষা শিখছি। এই ভাষায় আমার দখল খুব একটা ভালোনা। কাজ চালানোর মতো বলতে পারি কিন্তু উচ্চারণ হয়না। মোটামুটি লিখতে ও পড়তে পারি। আর মূল সমস্যা হচ্ছে, ওদের উচ্চারণটাও বুঝতে পারিনা দ্রুত বললে। আশা করছি ভাষাটা বছর খানেকের মধ্যেই রপ্ত করে ফেলবো।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি, আর ফ্রান্স এখন আমার পিতৃভূমি। মাতৃভূমিতে জন্মেছি আর এই পিতৃভূমিতে আমি পুনর্জন্ম লাভ করেছি মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পূর্ণশক্তিতে সামিল হওয়ার জন্য। ফ্রান্স আমাকে পিতৃস্নেহে আশ্রয় দিয়েছে রক্ষা করেছে। এই ফ্রান্স শুধু কবিতা আর শিল্পের শহরই নয় দ্রোহের আর বিপ্লবের শহরও বটে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের আমৃত্যু লড়াই করে বিজয়ী হবার তৌফিক দান করুন। যেন বিজয়ীর বেশে দেশান্তরী সব সহযোদ্ধাদের নিয়ে একদিন দেশে ফিরতে পারি। ধ্বংসস্তুপ থেকে আবার প্রিয় মাতৃভূমিকে উদ্ধার করে নুতনভাবে গড়ে তুলতে পারি।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-