গিনেস বুকে ঠাই পাওয়া বাংলাদেশের রেকর্ডগুলো

২০১০ সালের হিসেবানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৯১৮ জন বাস করে! বিশ্বের কোনো দেশেই এরচাইতে বেশি ঘনত্বে মানুষ বসবাস করে না। গিনেস বুকে নিজের নাম, নিজের দেশের নাম কে না দেখতে চায়! বাংলাদেশের নামও গিনেস বুকের বেশ কিছু রেকর্ডে ঠাই পেয়েছে। বেশ কিছু রেকর্ড ভালো লাগার হলেও নিশ্চিতভাবেই কয়েকটি রেকর্ডে বাংলাদেশের নাম দেখাটা আমাদের জন্য ভীষণ বিব্রতকর ও কষ্টের।

গিনেস বিশ্ব রেকর্ড (Guiness World Records) যা ২০০০ সালে থেকে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নামে পরিচিত। এটি একটি বার্ষিক প্রকাশনা বিশেষ। এতে বিশ্বের যাবতীয় রেকর্ডসমূহ নথিবদ্ধ থাকে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক-

  • এক সাথে সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সঙ্গীত। ২০১৪ সালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১ লক্ষ মানুষ একসাথে জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনেস বুকে নাম লেখায় বাংলাদেশ।
  • জোবেরা রহমান লিনু বাংলাদেশের প্রখ্যাত টেবিল টেনিস খেলোয়াড়। ১৯৭৭ থেকে ২০০১ কাল-পরিধিতে ১৬ বার জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ তার নাম উঠেছে।
  • সুদর্শন দাশ নামের এক বাঙালি ঢোল বাদক টানা ২৭ ঘণ্টা ঢোল বাজিয়ে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই তাকে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড কমিটি স্বীকৃতি দেয়।
  • সবচাইতে বেশি মানুষ শীর্ণকায়। বিএমআই (বডি ম্যাস ইনডেক্স) সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষ সবচাইতে বেশি শীর্ণকায়। ৯০ লাখেরও বেশি শিশুর ওজন স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় কম।
  • সবচেয়ে বৃহৎ সাইকেলের লাইন। বিডিসাইক্লিস্টের আয়োজনে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর ১১৮৬ জন সাইক্লিস্ট অংশ নিয়েছিলেন এই বিশ্বরেকর্ড গড়ার মিশনে। রেকর্ড করার জন্য পুরো পথ তাদের একটি সিঙ্গেল লাইনেই থাকতে হয়েছিল।
  • সবচেয়ে বড় শিল। ২.২ পাউন্ড ওজনের শিল পড়েছিল গোপালগঞ্জে, ১৪ এপ্রিল ১৯৮৬ সালে। ভয়াবহ এই ঝড়ে ৯২ জন মারা যায়।
  • একই পরিবারের মধ্যে বিয়ে। নরেন্দ্রনাথের পাঁচ ছেলে তারাপদ কর্মকারের পাঁচ মেয়েকে বিয়ে করেছিল ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৬ সালের মাঝে। এটি একটি বিশ্বরেকর্ড।
  • আব্দুল হালিম ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ওয়ালটনের ব্যানারে ঢাকায় মাথায় বল নিয়ে দ্রুততম সময়ে স্কেটিং জুতা পরে ১০০ মিটার অতিক্রম করেন । কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মে তিনি এই খেলা প্রদর্শন করে ২৭.৬৬ সেকেন্ডেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছান। ল্যাপে ওই দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় নিয়েছিলেন ২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড। এই প্রচেষ্টার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ স্বীকৃতি দেয়।
  • আব্দুল হালিম মার্সেলের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ট্র্যাকে মাথায় বল নিয়ে টানা ১৫.২ কিলোমিটার হাঁটার ভিডিও দৃশ্য ধারণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে। তিনি পেছনে ফেলেছিলেন ১১.১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে বিশ্ব রেকর্ড গড়া মালয়েশিয়ার ই মিং লুকে।
  • সবচে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। বিশ্বের সবচাইতে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের নাম সুন্দরবন।
  • সবচেয়ে বড় মানববন্ধন। ২০০৪ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘নো-কনফিডেন্স’ ক্যাম্পেইনের আওতায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছিল আওয়ামী লিগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার এই মানববন্ধন ছিল ১০৫০ কিলোমিটারব্যাপী!
  • সর্বাধিক ঘনত্ব। ২০১০ সালের হিসেবানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৯১৮ জন বাস করে! বিশ্বের কোনো দেশেই এরচাইতে বেশি ঘনত্বে মানুষ বসবাস করে না।
  • সবচাইতে ভয়াবহ বন্যা। সবচেয়ে বড় বন্যা এবং গৃহহীন হওয়ার রেকর্ডটি দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের। ১৯৯৮ সালে দেশের ভয়াবহ এই বন্যায় আড়াই কোটি মানুষ ঘর হারায় এবং প্রায় ৫৭ ভাগ অঞ্চল প্লাবিত হয়।
  • লাইফবয় হাত ধোয়ায় উৎসাহিত করতে ঢাকাতে ১১,১৭৫ জন মানুষের সমন্বয়ে বৃহত্তম হাতের আকৃতি তৈরি করে ১৪ অক্টোবর ২০১৭ গিনেস বুকে নাম লেখায়।
  • নোয়াখালী জেলার কণক কর্মকার কপালে ১১৫০ টি প্লাস্টিকের গ্লাস এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ড রেখে প্রথমবার, কপালে পঁচিশ মিনিট গিটার ব্যালেন্স করে দ্বিতীয়বার, ঘাড় দিয়ে এক মিনিটে ছত্রিশবার ভলিবল ক্যাচ ধরে তৃতীয়বার এবং থুতনিতে ১৫ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড গিটার ব্যালেন্স করে চতুর্থ বার গিনেস বুকে নাম লেখান।
  • মাগুরা জেলার মাহমুদুল হাসান ফয়সাল হাতে এক মিনিটে ১৩৪ বার ফুটবল ঘুরিয়ে ১১ আগস্ট ২০১৮ এবং ০৬ জানুয়ারি ২০১৯ এক মিনিটে ১৪৪ বার বাস্কেটবল ঘুরিয়ে গিনেস বুকে নাম লেখান
  • মাসুদ রানা ঢাকার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে মাথার উপর ফুটবল নিয়ে ৪৪.৯৫ সেকেন্ডে ৫০ মিটার সাঁতার কেটে গিনেস রেকর্ড করেন। গিনেস বুক তাদের ওয়েবসাইটে ০২ আগস্ট ২০১৮ -এ রেকর্ড প্রকাশ করে[১৪]
  • ইমরান শরীফ ঢাকার রাস্তায় কারও সহযোগীতা না নিয়ে, একাই ২.৫২৭ কিলোমিটার ( ৮,২৯০ ফুট ৮.১৯ ইঞ্চি ) লম্বা পেপার ক্লিপ দিয়ে সিকল (চে’ন) তৈরি করে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ গিনেস বুকে উঠে আসেন

(ইনডেপেন্ডেন্ট অবলম্বনে ঘাটাইলডটকম)/-