গার্টনারের ধারণা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চলতি বছর বৈশ্বিক ব্যয় বাড়বে ৬.২ শতাংশ

শুল্ক আরোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ, ডলারের অবমূল্যায়ন অথবা উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (নাফটা) নিয়ে পুনরায় দরকষাকষি— সবকিছু নিয়েই বিশ্ববাণিজ্যে এক ধরনের উত্কণ্ঠা কাজ করছে। কিন্তু এ উদ্বেগের মাঝেই প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের একটি সুসংবাদ দিল গার্টনার ইনকরপোরেশন। মার্কিন গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, চলতি বছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক ব্যয় গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। গার্টনারের সর্বশেষ ব্যয় পূর্বাভাসে এমনটি জানানো হয়েছে। খবর জেডডিনেট।

গতকাল বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যয়ের সর্বশেষ পূর্বাভাসটি প্রকাশ করেছে গার্টনার। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে আইটি খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে, যা গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গতকালের পূর্বাভাস গার্টনারের জানুয়ারির পূর্বাভাসের চেয়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করেছিল, চলতি বছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক ব্যয় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

মূলত গত বছর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি খাত উত্তরণের পথে রয়েছে। জানুয়ারির পূর্বাভাসের সময় গার্টনারের রিসার্চ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন-ডেভিড লাভলক জানান, বৈশ্বিক ব্যয়ে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে আইটি খাত ২০১৭ সালেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। অবশ্য এক্ষেত্রে সামান্য হলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রেক্সিটের সম্ভাব্য প্রভাব, মুদ্রার ওঠা-নামা ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দার বিষয় মাথায় রেখেছে। অবশ্য অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তারা আইটি খাতে ঠিকই বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে। কারণ তারা রাজস্ব প্রবৃদ্ধির বিষয়টি আঁচ করতে পারছে।

অনিশ্চয়তা কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। গার্টনার বলছে, চলতি বছরের বাকি সময়টায় ও আগামী বছর ডলারকে চরম অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নাফটা চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা, সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধই এর মূল কারণ। এগুলো আইটি অর্থনীতিতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ভবিষ্যতে কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে গার্টনারের পূর্বাভাস কিন্তু আইটি ব্যবসায়ীদের আশাবাদীই করে তুলছে। গার্টনারের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর ডাটা সেন্টার সিস্টেমস বাদে বাকি সব সেগমেন্টেই ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের চেয়ে বেশি হবে। ২০১৮ সালে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার, ডিভাইস, আইটি সেবা ও যোগাযোগ সেবা সেগমেন্টে ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে যথাক্রমে ১১ দশমিক ১, ৬ দশমিক ৬, ৭ দশমিক ৪ ও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে এসব সেগমেন্টে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৮, ৫ দশমিক ১, ৪ দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তির চারটি সেগমেন্টেই ব্যয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির আশা করছে গার্টনার। নেতিবাচক পূর্বাভাস রয়েছে শুধু ডাটা সেন্টার সিস্টেমস সেগমেন্টেই।

গার্টনারের মতে, চলতি বছর ডাটা সেন্টার সিস্টেমসে ব্যয় বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের বছরের প্রবৃদ্ধির চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। ২০১৭ সালে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। জন-ডেভিড লাভলকের ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে, বিশেষ করে স্টোরেজ সেগমেন্টে। গার্টনার বলছে, চাহিদার তুলনায় মেমোরি চিপ ও সিপিইউর মতো যন্ত্রাংশের সরবরাহ কম থাকায় চলতি বছর স্টোরেজ সেগমেন্টকে কঠিন সময়ই পার করতে হবে।

ডিভাইস সেগমেন্ট প্রসঙ্গে লাভলক বলেছেন, এ বাজারে দুই ধরনের গতিধারা দেখা যাচ্ছে। প্রথমত. কিছু ক্রেতা নতুন করে ডিভাইস কেনা বন্ধ রেখেছেন। দ্বিতীয়ত. কিছু ক্রেতা কিনলেও বেশি দামের পণ্যগুলোই কিনছেন। এ কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রান্তিক ভোক্তাদের ব্যয়ের পরিমাণ বিক্রীত মোট ইউনিটের চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকবে।

গার্টনার ২০০৭ সাল থেকে ব্যয়ের পূর্বাভাস প্রকাশ করে আসছে। এবারই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সার্বিক ব্যয়ে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিল তারা। এক্ষেত্রে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার সেগমেন্টও একটি রেকর্ডের ভাগীদার। গার্টনারের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এ সেগমেন্টে ব্যয় ১১ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে কখনই এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার খাতে ব্যয় এত বাড়েনি।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল.কম)/-