ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদ ২০ শতাংশ

এবার ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। আর ক্রেডিট কার্ডে সুদ আরোপ শুরু হবে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের পর।

বর্তমানে ব্যাংকগুলো ৪৫ দিন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়। আর ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমার বিপরীতে ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নতুন এসব নির্দেশনা দিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগে নির্দেশনা দিয়েছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদ অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি হবে না। ফলে ব্যাংকগুলো ১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করতে পারত।

তবে অনেক ব্যাংকই বিভিন্নভাবে এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করত। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ শতাংশ সুদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।

ক্রেডিট কার্ড থাকলে রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদ অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে না। আর ক্রেডিট কার্ডের সুদহার কেবল অপরিশোধিত বকেয়া স্থিতির ওপর প্রযোজ্য হবে।

গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ডরে মাধ্যমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ উত্তোলন করতে পারেন, এর বেশি নগদ উত্তোলনের সুযোগ নেই।

কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কোনো কোনো ব্যাংক বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রকাশ নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণসুবিধা প্রদান করছে, যা ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।

আবার এ ধরনের ঋণের ওপর অযৌক্তিকভাবে বেশি সুদ আদায় করছে, যা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। আবার কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের অপরিশোধিত বকেয়া বিলের ওপর লেনদেনের তারিখ থেকেই সুদ আরোপ করছে এবং অপরিশোধিত বিলের বিপরীতে বিলম্ব মাশুল আদায় করছে।

এ জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে, সুদহার হবে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। সুদ আরোপ করা যাবে ঋণ পরিশোধের তারিখ শেষ হওয়ার পর। বিলম্ব পরিশোধিত ঋণের বিপরীতে শুধু একবার বিলম্ব ফি আদায় করা যাবে।

জানা গেছে, ক্রেডিট কার্ডে শীর্ষে রয়েছে দি সিটি, ব্র্যাক, ইস্টার্ন ও স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে সুদ হার ২৭ শতাংশ। এর বাইরে কিছু ব্যাংক কম সুদও নেয়। এর ফলে বেশির ভাগ গ্রাহকের সুদ কমে আসবে।

(প্রথমআলো, ঘাটাইল ডট কম)/-