কোটা সংস্কারের আন্দোলন কোন পথে?

কোটা পদ্ধতির সংস্কার ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোটা পদ্ধতির পক্ষে বিপক্ষে রয়েছে মত-দ্বিমত। সরকার আন্দোলনরত অংশের দাবির সাথে একাত্মতা জানিয়েছে। কিন্তু ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে সহিংসরূপ দিল কোন গোষ্ঠী? এখানে চিন্তার খোরাক রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্যসন্তান। যাদের ত্যাগের ফসল এদেশ, তাদের বঞ্চিত করে কর্ম কমিশনের নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উত্থাপনকারী এসব গোষ্ঠীর মূলত স্বাধীনতা বিরোধী। তারা স্বাধীন দেশের নেপথ্য কারিগরদেরই প্রকারান্তরে ছোট করছে। মেধার মূল্যায়ন অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার সময়ের দাবি, যা অনস্বীকার্য।  কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করে অবাস্তব আর নীতিবর্জিত দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, নারীরা এখনও কিছু ক্ষেত্রে অনগ্রসর অবস্থায় রয়েছে। সমাজের মূলধারার সব সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে। নারীদের জন্য তাই এক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণ কোনো অংশেই অযৌক্তিক নয়। এরপর আসে, প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের কথা। সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে নীতি প্রণয়ন কখনোই কাম্য নয়। কারণ প্রতিবন্ধীরা সুস্থ সাধারণ মানুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় স্বাভাবিকভাবেই পেরে উঠবে না।

যেকোন আন্দোলন, যা ন্যায্য এবং জনবান্ধব- তার প্রতি সরকারের সমর্থন আছে এবং থাকবে। কিন্তু, এইভাবে আগুন ধরিয়ে, হামলা চালিয়ে আন্দোলনকারীদের কিছু অংশ কি প্রমাণ করতে চাইছে? আন্দোলনকারীসহ সমগ্র দেশবাসীর উচিত এসব নাশকতা সৃষ্টিকারী, বিচ্ছিন্নতাবাদী, সুযোগ সন্ধানীদের থেকে সাবধানে থাকা।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল.কম)/-