কালিহাতীতে শিক্ষকের জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্ত স্থগিত

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুুরীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে শিক্ষক কর্মচারী এমপিওভুক্তির জন্য প্রায় কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহন, সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার গুরুতর অভিযোগে সিনিয়র শিক্ষক হায়দার আলী শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপরদিকে তদন্তের জন্য নির্ধারিত বুধবার (৮ জুলাই) আইনশৃংখলা অবনতির আশংকায় তদন্ত স্থগিত ঘোষণা করেন তদন্ত কমিটির আহবায়ক জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়েজিদ হোসেন।

প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান সিকদার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম স্বাক্ষরিত গত ২৩জুন গবেষনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়েজিদ হোসেনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জরুরী ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ২৫জুন কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ বায়েজীদ হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকে পহেলা জুলাই বেলা ১১টায় সরেজমিনে তদন্ত কার্য পরিচালনার লক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্ধারিত দিন ও সময়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদীসহ উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। নির্ধারিত তারিখের এক দিন আগে গত ৩০জুন আকস্মিকভাবে রহস্যজনক কারণে তদন্ত কমিটির আহবায়ক তারিখ পরিবর্তন করে ৮জুলাই তারিখ পুনঃনির্ধারণ করেন।

তদন্তের জন্য পুনঃনির্ধারিত ৮জুলাই বুধবার আইনশৃংখলা অবনতির আশংকায় তদন্ত স্থগিত জানিয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়েজিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ যদি বলেন আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং থাকবে, সেক্ষেত্রে আমরা তদন্ত কাজ পরিচালনা করবো কিন্তু এসআই সাহেব তো চলে যাবেন, সেক্ষেত্রে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির দায় আমি নিতে পারবোনা।

আমরা পরবর্তীতে তদন্তের দিন-সময় ও স্থান সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাবো বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি ডাঃ এম.এ কাশেম শিকদার এ বিষয়ে বলেন, পরিকল্পিতভাবেই প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান শিকদার প্রকৃত ঘটনা আড়াল চেষ্টায় কালক্ষেপন করতে ব্যাপক জনসমাগম করেন, পুলিশও রহস্যজনক কারণে স্বাভাবিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, এমতাবস্থায় তদন্ত কমিটির সম্মানিত কর্মকর্তাগণ ভীত হয়ে পড়েন।

অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টির কল্যাণে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

১৯৯৯ সনে সাত জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র কস্তুুরীপাড়ায় কস্তুুরীপাড়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছর পর চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল কস্তুুরীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত তালিকায় স্থান পায়। সরকারি ঘোষনা অনুযায়ী গত জুন ২০১৯ তারিখ হতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অপরদিকে এ সুযোগে অর্থ লিপ্সায় মেতে উঠেন প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান সিকদার লিটন। তিনি শিক্ষক-কর্মচারীর নাম এমপিওভুক্ত করণ ও লক্ষ লক্ষ টাকা এরিয়ার বিল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ দাবী করে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাপ দিতে থাকেন।

দীর্ঘদিন বিনাবেতনে কর্মরত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মোঃ শামস উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের অর্থ লিপ্সার কাছে হেরে গিয়ে এমপিওভুক্তি বঞ্চিত হয়েছেন। শিক্ষক উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান সিকদার জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহন করে প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আবুল কাসেম শিকদারের স্বাক্ষর জাল করে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের নিয়োগ দেখিয়ে ৫জনের কাজ থেকে ৫০লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহন করে তাদের নাম এমপিওভুক্তির জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করেন। যারা কোনদিনই বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী ছিলেন না এবং তাদের নিয়োগ পত্রে সাক্ষর করেন নাই বলে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ভুয়া ও জাল বলে অবিহিত করেছেন তৎকালিন সভাপতি ডাক্তার আবুল কাসেম সিকদার।

নিয়োগ পত্র জাল করে যাদের নাম এমপিও ভুক্তির জন্য পাঠানো হয়েছে তারা হচ্ছেন মোঃ ফরিদ আহমেদ, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ জুলহাস উদ্দিন, আতিকুর রহমান, ইকবাল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের কর্মরত অন্য ৪ জন শিক্ষকের কাজ থেকে ৮ লাখ টাকা করে মোট ৩২ লাখ টাকা ও দপ্তরী হিসাবে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ খেকে ৫লাখ টাকা ও আয়া জ্যোৎসনা রানীর কাছ থেকে ৩লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন বলে জানা যায়।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email