কালিহাতীতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা মাতাব্বরদের দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩য় শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টার মামলা চলমান থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গ্রাম্য শালিসে মীমাংসা করছেন ইউপি চেয়ারম্যান। মীমাংসার করেও এটি অন্যায় বলে স্বীকার করলেন ওই চেয়ারম্যান। গত রোববার (২২ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর মামুদ স্থানীয় মাতাব্বরদের নিয়ে ওই ছাত্রীর পরিবারকে ১লাখ ৬০ হাজার টাকা দিলেও এটি মীমাংসা করা হয়েছিলো প্রায় ৩মাস আগে।

মামলা সূত্রে জানা যায় , চলতি বছরের (৮মার্চ) দুপুরে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের স্কুল ছাত্রী প্রকৃতির কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় পাশের বাড়ির ফরমান আলীর ছেলে রাসেল জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে । পরে ওই ছাত্রীর চিৎকারে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে পালিয়ে যায় রাসেল। ঘটনার পরের দিন ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই বখাটেকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। কয়েকদিন জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে আসে ওই বখাটে। এরপর থেকে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকে ।

এদিকে বিষয়টি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাতাব্বরদের জানালে তারা মীমাংসার জন্য চাপ দিতে থাকে। এসময় তারা মীমাংসার জন্য রাজি না হলেও একসময় তারা নিরুপায় হয়ে তাদের মীমাংসায় বাধ্য করা হয়। পরে মীমাংসায় ওই ছাত্রীর পরিবারকে ১লাখ ৬০হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়। মীমাংসার প্রায় ৩ মাস পর গত (২২ডিসেম্বর) তাদের ওই টাকা দেয়।

এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবার জানান, তারা টাকা দিলেও সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছে এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের পরিবার কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এই বিষয়ে স্থানীয় মাতাব্বর জামাল মেম্বার, চন্দ্রি বাবু,যতা, দুলাল জানান, মীমাংসা করা হয়েছে প্রায় ৩ মাস আগে।

এ সময় চেয়ারম্যান টাকাগুলো মেয়ের পরিবারকে না দিয়ে আমাদের কাছে রেখে দিতে বলে চেয়ারম্যান তাদের বলেন, মামলা যে পর্যন্ত শেষ না হবে টাকাগুলো দেয়া হবে না। পরে যখন দেখলাম বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে তখন চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি উপস্থিত থেকে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদে বসে টাকাগুলো দিয়ে দেন।

এবিষয়ে নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শুকুর মামুদ বলেন,মীমাংসার জন্য তাদের কোন প্রকার চাপ দেয়া হয়নি। দুইপক্ষ এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিতে বলেছে তাই করে দিয়েছি। তবে এটি মিমাংসার যোগ্য নয়। এটি মীমাংসার করা আইন বিরোধী অপরাধ। তবে সামাজিক দিক বিবেচনা করে মীমাংসা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন জানান, ধর্ষণ চেষ্টা গ্রাম্য শালিশে মীমাংসার বিষয়টি আমার জানা নাই। যদি কেউ এটি করে থাকে তবে তিনি অবশ্যই অন্যায় করেছেন।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-