কালিহাতীতে গণপিটুনির শিকার মিনু মারা গেছেন

গুজবে ছেলে ধরা সন্দেহে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সয়া বাজারে গত ২১ জুলাই রোববার গণ পিটুনিতে আহত ভ্যান চালক মিনু (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার (২৯ জুলাই) ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয় সাংবাদিক ও সমাজ কর্মী আল আমিন শোভন মিনুর মৃত্যুর বিষয়টি ঘাটাইলডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

এঘটনায় মামলা হওয়ায় পরে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত ২১ জুলাই রোববার টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছেলে ধরা সন্দেহে ভ্যান চালক মিনুকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। মিনু জেলার ভূঞাপুর উপজেলার টেপিবাড়ী গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে। কালিহাতীর সয়া বাজারে দুপুর ২টায় দুই শিশুকে নিয়ে যেতে দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ওই ভ্যান চালককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মিনুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই অর্থাভাবে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় আজকে মিনুর মৃত্যু হলো।

জানা যায়, টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরের টেপিবাড়ী গ্রামের ভ্যান চালক মিনু মিয়া জন্মের কিছুদিন পরেই মা হারা হয়। এরপর থেকে স্থানীয়দের কাছেই বেড়ে উঠেছেন তিনি।বড় হয়ে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে চালাতেন ছোট সংসার। এই সংসারে রয়েছে ছয় বছরের ছেলে ও ছয়মাসের গর্ভবতী স্ত্রী। সম্প্রতি বন্যায় মিনুর বসতভিটায় পানি প্রবেশ করে। এছাড়া বাঁধ ভেঙে স্থানীয় সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কর্মহীন হয়ে পড়ে মিনু। সে কারনে মাছ ধরে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে টাকা ধার করে জাল কিনতে রবিবার কালিহাতীর সয়া হাটে যায় সে। আর সেখানেই ছেলে ধরা সন্দেহে সরল মিনুকে অমানবিক গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পরে নির্যাতনকারীরা মৃত ভেবে ফেলে গেলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মিনুর বাবা কুরবান আলী বলেন, টাঙ্গাইল হাসপাতাল থেকে ফেরত দেয়ার পরে মিনুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০০ নং ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার কিছু নাই ছেলেকে চিকিৎসা করানো মতো। যা কিছু ছিলো সবি এরই মধ্যে শেষ হয়েগেছে। অবশেষে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় আমার ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-