কালিহাতীতে গণপিটুনির শিকার ভ্যান চালক ‘মিনু’ টাকার অভাবে মৃত্যু পথযাত্রী

দরিদ্র ও সহজসরল ভ্যান চালক মিনুকে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুচিকিৎসার জন্য সাহায্যের চেয়েছেন তার পরিবার। এঘটনায় মামলা হওয়ায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরের টেপিবাড়ী গ্রামের ভ্যান চালক মিনু মিয়া। জন্মের কিছুদিন পরেই মা হারা হয় সে। এরপর থেকে স্থানীয়দের কাছেই বেড়ে উঠেছেন তিনি।বড় হয়ে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে চালাতেন ছোট সংসার। এই সংসারে রয়েছে ছয় বছরের ছেলে ও ছয়মাসের গর্ভবতী স্ত্রী। সম্প্রতি বন্যায় মিনুর বসতভিটায় পানি প্রবেশ করে। এছাড়া বাঁধ ভেঙে স্থানীয় সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কর্মহীন হয়ে পড়ে মিনু। সে কারনে মাছ ধরে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে টাকা ধার করে জাল কিনতে রবিবার কালিহাতীর সয়া হাটে যায় সে। আর সেখানেই ছেলে ধরা সন্দেহে সরল মিনুকে অমানবিক গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পরে নির্যাতনকারীরা মৃত ভেবে ফেলে গেলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মিনু।

এদিকে গত কাল দুপুরে উপজেলার ভূঞাপুর- তারাকান্দি সড়কের টেপিবাড়ি এলাকায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মিনুর সুচিকিৎসার দাবীতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা ।

এসময় স্থানীয়রা বলেন,মিনু একজন সহজসরল মানুষ। কারো সাথে কখনো ঝগড়া করে নাই। কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। যারা তাকে অন্যায় ভাবে পিটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচারের দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

মিনুর বাবা কুরবান আলী বলেন, টাঙ্গাইল হাসপাতাল থেকে ফেরত দেয়ার পরে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০০ নং ওয়ার্ডে রয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। আমার কিছু নাই ছেলেকে চিকিৎসা করানো মতো। যা কিছু ছিলো সবি এরই মধ্যে শেষ হয়েগেছে। এখন যদি কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে না আছে তাহলে সে টাকার অভাবে চিকিৎসা না পেয়েই মারা যাবে। তাই তিনি ছেলেকে বাঁচাতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মিনুর ভাই আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ভাইকে যেভাবে পেটানো হয়েছে এখন সে বাঁচবে কিনা সন্দেহ আছে। আমরা এর বিচার চাই। এঘটনায় কালিহাতী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন বলেন, ভ্যান চালক মিনুকে ছেলে ধরা সন্দেহে পেটনোর ঘটনায় মামলা হওয়ার পর রাতে অভিযান চালিয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় আমরা বিভিন্ন ভাবে গুজব রোধে প্রচারনা চালাচ্ছি। এরই মধ্যে টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলায় ছেলে ধরা সন্দেহে কয়েকজনকে পিটিয়েছে স্থানীয়রা। যারা পিটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

(অলক কুমার দাস, ঘাটাইলডটকম)/-