কালিহাতীতে অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার কারখানা

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অবৈধভাবে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা কারখানা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক বিএনপি নেতা ও নব্য হাইব্রীড আওয়ামী লীগার ফারুক প্রামানিক। উপজেলার নগরবাড়ী গ্রামে দীর্ঘদিন যাবত সে ওই কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও অবৈধভাবে ব্যাটারি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটি বৈধ না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি ওই কারখানা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অবৈধ কারাখানা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে ফারুক প্রামানিক উপজেলার এলেঙ্গাতে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার শো রুম দেন। শোরুম দেওয়ার কয়েক বছর পর তিনি গ্রামের বাড়িতে এ অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার কারখানা করছেন।

কারখানাটি অবৈধ হওয়ায় প্রবেশের ফটক সব সময় তালাবদ্ধ করে রাখেন। এছাড়াও ওই কারাখানা থেকে ব্যাটারি বিক্রি করে থাকেন। ওই কারাখানা থেকে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি অবৈধ অটোরিক্সা বিক্রি করে থাকেন।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার পাশেই নগরবাড়ী ব্রীজের পাশেই বড় একটি সাইন বোর্ড চোখে পড়লো। সাইন বোর্ডে লেখা ‘বোরাক শো-রুম, নগরবাড়ী’। পাশেই চারিদিকে রঙ্গিন টিনের বেড়া দেওয়া কারখানা। রাস্তা থেকে আবাসিক বাড়ি মনে হলেও ভিতরে অবৈধ অটো রিক্সার কারখানা।

কারখানার প্রধান ফটক সব সময় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তবে প্রধান ফটকে কোন দারোয়ান বা প্রহরি নেই। ছোট ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে সাত/আট জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলো।

প্রতিবেদকের উপস্থিতির টের পেয়ে ফারুক প্রামানিকের ছোট ভাই চীন প্রবাসী সালাউদ্দিন প্রতিবেদককে কারাখানা থেকে বের হতে বলেন। তবে সালাউদ্দিনের নামে চীন থেকে অবৈধভাবে ব্যাটারি আমদানির অভিযোগ রয়েছে।

কিছুক্ষনের মধ্যেই অবৈধ অটোরিক্সার কারখানার স্বত্তাধিকারী ফারুক প্রামানিক উপস্থিত হলেন। তিনি এসেই বলেন, সাতঘাট ঠিক করেই কারখানা করেছি। আমার কাছে সকল কাগজ পত্রই আছে। কাগজ পত্রের ফটো কপি দিতে তিনি রাজি হননি।

না প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, যেখানে সরকার থেকে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। সেখানে কিভাবে অটোরিক্সার কারখানা করেন। এছাড়াও ফারুকের বাড়ির ভিতরের ব্যাটারি রেখে বিক্রি করে থাকে। তাই অবৈধ অটোরিক্সার কারখানা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় দোকানদার শওকত মিয়া জানান, একদিন পর পর ট্রাকে করে অটো তৈরির কাঁচা মাল ও ব্যাটারি নিয়ে আসে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার অটোরিক্সা তুলে বিক্রি করে থাকেন। তাদের কারখানার গেট সব সময় বন্ধ থাকে। বাহিরের সাধারণ মানুষ ভিতরে প্রবেশ করতে দেয় না।

এ বিষয়ে ফারুক প্রামানিক বলেন, সকল প্রকার কাগজ পত্র নিয়ে আমি এই কারখানা করেছি। কতদিন আগে কারখানা করা হয়েছে ও কতদিন আগে কাগজ পত্র করেছেন সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি।

এ বিষয়ে কালিহাতী সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার রহমান জানান, এ বিষয়ে তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-