কলা ও আনারস চাষে বিলুপ্ত হচ্ছে মধুপুরের শাল-গজারি বন!

কলা ও আনারস চাষে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের শাল গজারি বন বিলুপ্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিটাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের মোট আয়তন প্রায় ৪৫ হাজার ৫৬৫ একর। এক দশক আগে বেহাত হওয়া বনভূমির ৬ হাজার একর পুনরুদ্ধার করে টিএনডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে অংশীদারের ভিত্তিতে বিদেউশ প্রজাতির বৃক্ষের উড়লট মডেলের বাগান করা হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এ বনায়ন খাতে ঋণ দেয়। এসব বাগানের বৃক্ষরাজি বেহাত হয়ে যাওয়ায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়। এমতাবস্থায় বন বিভাগ দ্বিতীয় পর্যায়ে ফরেস্ট্রি সেক্টর প্রকল্পের মাধ্যমে ঐ ছয় হাজার একরে পুনরায় একই মডেলের বনায়ন করে। কিন্তু দ্বিতীয় আবর্তের বনায়নও মুখ থুবড়ে পড়ে। এ সুযোগ লুফে নেয় স্থানীয় একটি মহল। পতিত বনভূমিতে কলা ও আনারস আবাদ শুরু করে।

সংরক্ষিত বনভূমিতে চাষাবাদ বন আইনে দণ্ডনীয় হলেও লহুরিয়া বিট ছাড়াও জাতীয় সদর উদ্যান বিট, রাজাবাড়ী বিট, গাছাবাড়ী বিট, বেড়িবাইদ বিট, দোখলা সদর বিট, চাঁনপুর বিট, অরনখোলা সদর বিট ও চাড়ালজানি বিটে দিন দিন কলা ও আনারস আবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে। এভাবে কলা ও আনারস আবাদ গজারি বনকে ক্রমশ সংকুচিত করছে।

বেড়িবাইদ বিটের কলা চাষি আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করেন, সেলামি না দিয়ে কলা চাষ করলে জবরদখলকারী আখ্যা দিয়ে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, দুই বছর আগেও যেখানে ছিল নিশ্ছিদ্র গজারি বন। কলা চাষিদের দৌরাত্ম্যে এখন সেখানে সারি সারি কলা বাগান।

এ ব্যাপারে লহুরিয়া বিট অফিসার আব্দুল জলিল জানান, তিন মাস আগে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কেউ নতুন করে গজারি বন সাবাড় করার সুযোগ পায়নি।

মধুপুর অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক জামাল হোসেন তালুকদার জানান, জবরদখলকারীরা খুবই প্রভাবশালী। তবু বেহাত বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং পুনঃবনায়নের চেষ্টা চলছে। সেলামি আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়। তবে কিছু অনিয়মের অভিযোগে একজন বন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-