২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

করোনা সন্দেহে চিকিৎসা দেয়নি ৩ হাসপাতাল, যুবকের মৃত্যু

মার্চ ২৯, ২০২০

নওগাঁর রানীনগরে ঢাকা থেকে আসা আল আমিন (২২) নামে এক যুবক তীব্র সর্দি, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে
মারা গেছে পরিবারের অভিযোগ। নিহত আল আমিন নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার অলংকার দিঘী গ্রামের মকলেছুর রহমানের ছেলে। শনিবার (২৮মার্চ) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে মারা যায়। আজ রোববার সকালে পারিবারিকভাবে নিজ গ্রামে দাফন করা হয় বলে নিহতের পরিবার নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। শনিবার সকালে গায়ে প্রচন্ড সর্দি, জ্বর ও কাশি নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগাঁতে পৌছালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু ও তার লোকজন করোনা আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি মেম্বার কিছু লোকজন গ্রামে ঢুকতে বাঁধা দেয়। পরে ভেটি বাজার স্ট্যান্ড থেকে চিকিৎসার জন্য তাকে পাশ্ববর্তী বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। সেখান থেকে ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দায় রাখা হয়।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন অবগত হয়ে রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেখানকার চিকিৎসকরা নওগাঁ সদর হাসপাতালেও কোন চিকিৎসা পায় না।

আল আমিনের বাবা মকলেছুর রহমান বলেন, ছেলেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার জন্য হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেন। বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিছু ওষধ ও ইনজেকশন দিলেও ছেলের শরীরের জ্বর কোন ভাবেই কমছিলো না। এরপর থেকে কোন চিকিৎসক আমার ছেলের আশেপাশে আর আসেনি। করোনাসন্দেহে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অতিরিক্ত জ্বরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অবশেষে ছেলে রাত ৮টার দিকে মারা গেছে বলে দাবী করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, আল আমিন জ্বর-সর্দির খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বলেছিলাম চিকিৎসকের প্রতিবেদন নিয়ে গ্রামে আসতে। প্রতিবেদনে কোন সমস্যা না থাকলে গ্রামে আসবে, আর সমস্যা থাকলে আসার দরকার নেই। গ্রামবাসীর কথা ভেবেই এমন সীদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, আল আমিনের লাশ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আল আমিন করোনায় নয়, মস্তিস্কের সংক্রমণ বা মেনিনজাইটিস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তির সময় তার শরীরে জ্বরের মাত্রা তীব্র ছিল। মাথা ব্যাথা ও গলা ব্যাথা ছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, আল আমিনের শরীরে ১শ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে জ্বর থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন বলেন, নিহতের ডাক্তারি সনদপত্রে মেনিনজাইটিস রোগে মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আজ রোববার সকালে মৃত আল আমিনের বাবা মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, কোথাও তার ছেলের সুচিকিৎসা হয়নি। তিনি ছেলেকে নিয়ে পাঁচটা হাসপাতালে ঘুরেছেন। কিন্তু কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। পরে কালিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু ও ইউএনও আল মামুন সাহেবের সহযোগিতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শনিবার রাতে আল আমিন মারা যান। রোববার সকালে নিজ গ্রাম অলরংকারদিঘিতে আল আমিনের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী।

(রাজেকুল ইসলাম, রাণীনগর, নওগাঁ/ ঘাটাইল ডট কম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Adsense

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

Divi Park

পঞ্জিকা

June 2020
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Adsense