করোনায় মারা গেলেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বাবুল

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই বরেণ্য শিল্পপতি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বাবুল দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা।

যমুনা গ্রুপের অধীনে তিনি গড়ে তুলেছিলেন অন্তত ৪১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থান তৈরি করেন হাজার হাজার মানুষের।

জাতীয় দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের মালিকানাসহ বস্ত্র, রাসায়নিক, চামড়া, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক্স, বেভারেজ, টয়লেট্রিজের ব্যবসা রয়েছে যমুনা গ্রুপের।

এর আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৪ জুন তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। পরদিন তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

তার মৃত্যুতে দেশের শিল্প খাতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন– বড় অসময় চলে গেলেন তিনি। করোনার সংকট কাটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার মতো উদ্যোক্তার খুবই দরকার ছিল। এ সময় তার চলে যাওয়া দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

গত ১৪ জুন নুরুল ইসলামের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওই দিনই তাকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনায় তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশিষ্ট এই শিল্পোদ্যোক্তার চিকিৎসায় এভার কেয়ারের ডা. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহবুদের নেতৃত্ব ১০ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এর বাইরে চীনের ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে পরামর্শ দিয়েছেন।

তার স্ত্রী সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বর্তমান জাতীয় সংসদের এমপি সালমা ইসলাম। ছেলে শামীম ইসলাম যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তার তিন মেয়ে- রোজালিন ইসলাম, মনিকা ইসলাম এবং সোনিয়া ইসলাম যমুনা গ্রুপের পরিচালক।

যমুনা গ্রুপ বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্পগ্রুপ। ১৯৭৪ সালে নুরুল ইসলাম যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। মেধা, দক্ষতা, পরিশ্রম ও সাহসিকতার মাধ্যমে একে একে শিল্প এবং সেবা খাতে গড়ে তোলেন ৩৮টি প্রতিষ্ঠান।

(যুগান্তর, ঘাটাইল ডট কম)/-