করোনায় মারা গেলেন ঘাটাইলের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলম তালুকদার

বিশিষ্ট ছড়াকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আলম তালুকদার আর নেই। আজ বুধবার বিকেলে (৮ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই শিশুসাহিত্যিক মারা গেছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আলম তালুকদারের মেয়ে নিপা বলেন, ‘ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাবা মারা গেছেন। গত শনিবার উনার করোনার পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ আলম তালুকদারের স্ত্রীর উদ্বৃতি দিয়ে জানান, আলম তালুকদার হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে সিএমএইচ এ গত রবিবার ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর শনিবার তার করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষায় ফল পজিটিভ আসে। আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা গেছেন।

তিনি ১৯৫৬ সালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি বেগম সুফিয়া কামাল গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিবার পরিকল্পনা মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরির মেয়াদ শেষে সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি বিশিষ্ট ছড়াকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা একশত ২০টি। তার প্রথম বই ’ঘুম তাড়ানোর ছড়া’ প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।

উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে- খোঁচান ক্যান, চাঁদের কাছে জোনাকি, ডিম ডিম ভুতের ডিম,ঐ রাজাকার, যুদ্ধে যদি যেতাম। তিনি অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আলম তালুকদারের মৃত্যুর সংবাদে কবি, লেখক, ছড়াকারদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তাঁর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শোক প্রকাশ করে কবি খালেদ খালেদ হোসাইন লিখেছেন, ‌”ভালোবাসার অসামান্য সামর্থ্য নিয়ে জন্মেছিলেন, অশেষ ছিল হাসবার ও হাসাবার ক্ষমতা, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো তোয়াক্কা করতেন না, অজস্র হাতে আপনি লিখে গিয়েছেন প্রতিনিয়ত, ছড়া তো বটেই, অন্যা্ন্য সাহিত্য-আঙ্গিকেও। যোগ্য মানুষের প্রশংসা করতেন অকুণ্ঠ চিত্তে, অযোগ্য উক্তিকে নস্যাত করতে তীব্র ও তাৎক্ষণিকভাবে। আপনি ছিলেন সার্বক্ষণিক মুক্তিযোদ্ধা। ভালোবেসেছিলেন বলে, ভালোবাসা পেয়েওছেন আপনি। এতো ভালোবাসা, জীবনঘনিষ্ঠ আবেগ, এতো কর্ম স্পৃহা–সব ফেলে এমন আকস্মিকভাবে আপনি চলে যাবেন, তা তো কল্পনাও করা যায় ন! একটু আগে বন্ধু মাহবুব বোরহান এই দৃঃসংবাদটাই জানালেন, করুণাহীন করোনা আপনাকেও চিরদিনের মতো কেড়ে নিয়ে গেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজেউন। এ শোক আমাকে বিচলিত ও অসুস্থ করে তুললো। ভালো থাকবেন, আলম ভাই।”

তার মৃত্যুতে ঘাটাইল প্রেসক্লাব, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, গালা গণ পাঠাগারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ও সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কম শোক প্রকাশ করেছেন।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-