২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

করোনাভাইরাসের ক্লাস্টার ও কমিউনিটি ট্রান্সমিশন!

এপ্রি ৮, ২০২০

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। একমাস আগে গত ৮ মার্চ দেশে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। একমাস পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৮ জনে, আর মারা গেছেন ২০ জন। আজ একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৪ জন। এদিকে নারায়ণগঞ্জে ৪৬ জন শনাক্ত হওয়ায় ওই জেলাকে ক্লাস্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর কতগুলো নতুন শব্দেরও আগমন ঘটেছে, যা এই রোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ইতোমধ্যে কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন শব্দ সম্পর্কে সাধারণের ধারণা জন্মেছে। এখন করোনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্লাস্টার ট্রান্সমিশন। প্রশ্ন হচ্ছে ক্লাস্টার ট্রান্সমিশন কী?

এ বিষয়ে জানতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি পরিবার এবং এর আশেপাশের বর্ধিত বৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ লোকালয়ে সংক্রমিত হলে তাকে ক্লাস্টার ট্রান্সমিশন বলা হয়। আর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে—যদি কোনও আক্রান্ত রোগী কোথা থেকে আক্রান্ত হলো, তা খুঁজে না পাওয়া যায়, বা কোনও তথ্য না পাওয়া যায়।’

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘যদি কোথাও একই জায়গায় কম দূরত্বের মধ্যে একাধিক রোগী থাকে, তখন ওই জায়গাকে ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করে অনুসন্ধান করা হয়।’

তবে কেবল ক্লাস্টার নয়, এখন করোনাভাইরাস কমিউনিটি ট্রান্সমিশনও হচ্ছে বলে স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। যদিও তারা একে সীমিত আকারে বলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সংখ্যা অনেক বেশি নয়। এটা এখনও সীমিত পর্যায়। তবে অবশ্যই কমিউনিটি সংক্রমণ আমরা বলতে পারি।’

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, বুধবার শনাক্ত হওয়া ৫৪ জনের মধ্যে ঢাকায় ৩৯ জন, ঢাকার অদূরে একটি উপজেলায় একজন, বাকি শনাক্ত ব্যক্তিরা অন্যান্য জায়গার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হওয়া ২১৮ জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৪৬ জন, মাদারীপুরে ১১ জন, চট্টগ্রাম ও মানিকগঞ্জে তিন জন করে, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, জামালপুরে দুই জন করে, গাইবান্ধায় পাঁচ জন, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, কক্সবাজার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নীলফামারী, রাজবাড়ী, রংপুর, শরীয়তপুর, শেরপুর এবং সিলেটে একজন করে শনাক্ত হয়েছেন।

ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জে ৪৬ জন শনাক্ত হওয়ায় ওই জেলাকে ক্লাস্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘পুরো নারায়ণগঞ্জকেই হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এছাড়া, রোগী শনাক্ত হওয়ায় লকডাউন আছে উত্তর রাজধানীর টোলারবাগ, বাসাবো, মাদারীপুরের শিবচরসহ গাইবান্ধার একটি উপজেলা।

এছাড়া, গত ৫ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকা লকডাউন ঘোষণা করে পুলিশ। ৭ এপ্রিল লকডাউন করা হয় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সাহাপাড়া গ্রাম, এর আগে করা হয় পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া, দুই জায়গাতেই একজন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

(বাংলা ট্রিবিউন, ঘাটাইল ডট কম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Adsense

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

Divi Park

পঞ্জিকা

June 2020
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Adsense