২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

করোনাকালে দেখা নেই ঘাটাইলে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সেই সাত গোলাপের

এপ্রি ১০, ২০২০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৯ জন। সাবেক সংসদ সদস্য এবং বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আরও সাতজন নেতা ওই সময় নৌকার হাল ধরতে চান। তারা চষে বেড়ান নির্বাচনী মাঠ। জনগণকে দেন নানা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের এ ক্রান্তিকালে এলাকায় তাদের দেখা নেই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ওঠেছে সমালোচনা ঝড়।

উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস সূত্রে জানা যায়, এই সময় এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেতা কর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নেত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই এলাকায় নেই। মাঠে কাজ করছেন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন নেতা, বর্তমান সংসদ সদস্য ,সাবেক সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যন।

নির্বাচনের আগে অনেক নেতাকেই এলাকায় দেখা যায়। গত সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে অনেকইে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এলাকায় শোডাউন করেন। জনসভায় বক্তব্যেও রাখেন এলাকা এবং জনগণের উন্নয়নে। জনগণের জন্য কাধে কাধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করবেন।

২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর বুধবার নৌকার মনোনয়ন দেওয়ার আগে ঘাটাইল পুরাতন বাসস্ট্যন্ডে পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান এর সভাপতিত্বে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট সাত নেতা এক মঞ্চে ওঠেন। সেখানে তারা ঘোষণা দেন আমরা সাত গোলাপ। কাজ কবরো এক সাথে। সাত গোলাপের এক গোলাপেরও দেখা মেলেনি এই ক্রান্তিকালে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এস এম বাবলু নামে একজন ওই নেতাদের ছবি পোস্ট করে লেখেন, ’আবার আসিব ফিরে তোমাদের দুয়ারে ভোটের আগে। আজ খুব কষ্ট করে এদের ধরে এনেছি আপনাদের জন্য। আপনারা খুঁজছিলেন, নিন এবার কিছু বলুন।’

তার এ পোস্টে মিলন মিয়া নামের একজন তার মন্তব্যে লেখেন, ‘এদের মনে হয় করোনা হয়েছে। এদেরকে ঘাটাইলে সারা জীবনের জন্য লকডাউন করে দেওয়া উচিত।’

সেই সাত নেতা, যাদের এই মূহুর্তে পাশে চায় ঘাটাইলবাসি-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা: কামরুল হাসান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জাকারিয়া মানব কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ তুহিন, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পিপি এস. আকবর খান, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড পর্ষদের পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুল আলম তালুকদার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ড. শহিদুল ইসলাম, ঘাটাইলের প্রয়াত সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের ছেলে ও ঢাকা ভিক্টোরিয়া হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান ও তেজগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সাহা।

এদিকে আগ বেলায় বিএনপি’র দেখা না মিললেও গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) থেকে দলীয় নেতা কর্মীদের ত্রাণ দিতে দেখা গেছে। উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ.খ.ম রেজাউল করিম বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক আমারা ত্রাণ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি।

ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এলকায় এখন পর্যন্ত তারা পা রাখেননি। তারা ব্যক্তি স্বার্থের মুখে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন, জনগণের স্বার্থে না।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে সাত নেতা এক মঞ্চে ওঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমরা সাত গোলাপ। সেই থেকে ওনারা সাত গোলাপ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ঝড়া গোলাপ। আমি মানুষের পাশে আছি যতদিন বেঁচে আছি থাকবো।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান বলেন, এটা তাদের মন মানসিকতার বিষয়। তাদের বিবেচনায় তারা যদি মনে করেতো এই সময় তাদের থাকা উচিত ছিল, তবে থাকতো। বিবেচনায় আসে নাই তাই থাকেনি। তারা যদি সত্যিকারে আওয়ামী লীগার হতো তবে এই দুঃসময়ে মাঠে থাকত। এরা পদ-পদবীর জন্য প্রচুর টাকা খরচ করবে কিন্তু জনগণের ক্রান্তিকালে তারা পাশে থাকবে না। এদের দ্বারা দলের কোনো উপকার হয় না।

তিনি আরও বলেন সরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করতেছি।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Adsense

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

Divi Park

পঞ্জিকা

June 2020
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Adsense