কমলা চাষে সফল ঘাটাইলের শামসুল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চায়না কমলাবাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন শিক্ষক শামসুল আলম। তাঁর বাগানের শতাধিক গাছে থোকায় থোকায় কমলা ধরেছে। কমলা আকারে যেমন বড়, তেমন স্বাদেও খুব মিষ্টি। এই বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার ফলচাষিরা। ভালো ফলন দেখে উৎসাহী হয়ে অনেকেই কমলা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

ঘাটাইল উপজেলার উত্তর সীমান্তে রসুলপুর গ্রামে শামসুল আলমের কমলাবাগান। ছয় বছর আগে তিনি তাঁর পৈতৃক সাত একর জমিতে ফলের বাগান করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রায় তিন বছর আগে সেই বাগানে শতাধিক কমলার চারা রোপণ করেন। এবারই প্রথম গাছগুলোতে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে ৪০ থেকে ৩ শতাধিক করে কমলা ধরেছে।

শামসুল আলমের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছগুলোয় কমলা ধরে আছে। কোনোটা পেকে হলুদ হয়ে গেছে। আবার কোনোটা সবুজ রয়ে গেছে। শামসুল আলম পরিচর্যা করছেন বাগান।

তিনি বলেন, এর আগে এ এলাকায় অনেকেই কমলার বাগান করে সফল হতে পারেননি। সে সময় কমলার যে ফলন তাঁরা পেয়েছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত টক। কিন্তু তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কমলার বাগান করেছিলেন। প্রথম বছরেই সাফল্য পেয়েছেন। সর্বোচ্চ তিন শতাধিক কমলা ধরেছে একটি গাছে। প্রথমবার ফলন কম। সামনে ফলন আরও বাড়বে।

শামসুল আলমের কমলার চাষের সাফল্য দেখে তাঁর নিজ এলাকা তো বটেই, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন কমলা চাষে উৎসাহী হচ্ছেন। শামসুল আলমের বাগানেই কথা হয় রসুলপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, শামসুল আলমের বাগানের কমলা ভালো ফলন দেখে তিনি নিজেও কমলা চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। কমলার বাগান করার জন্য এক একর জমি প্রস্তুত করেছেন।

এ ছাড়া ঘাটাইলের শালিয়াবহ গ্রামের মোখলেছুর রহমান, উপজেলা সদরের মনছুর আলী, পার্শ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার বেতবাড়ী গ্রামের আবদুস সাত্তারও কমলাবাগান করছেন শামসুল আলমের বাগানের ভালো ফলন দেখে। আশপাশের জেলা থেকেও উৎসাহী লোকজন এসেছেন কমলার বাগান দেখতে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ইকবার হোসেন জানান, তিনিও কমলাবাগান করতে আগ্রহী। শামসুল আলমের বাগানে ভালো ফলন হয়েছে শুনে দেখতে এসেছেন।

শামসুল আলম জানান, প্রথমবার, তাই অনেক কমলা আত্মীয়স্বজন, এলাকার মানুষ, দেখতে আসা উৎসাহী মানুষদের দিয়েছেন। এরপরও বাগান থেকেই দেড় শ টাকা কেজি দরে লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করছেন।

তিনি বলেন, ‘যখন কমলাবাগান করি, তখন অনেকেই নানা কটূক্তি করতেন। তাঁরা বলতেন এই এলাকায় কখনো মিষ্টি কমলা হবে না। কিন্তু আমার বাগানের কমলার ফলনে প্রমাণিত হয়েছে যে এখানেও মিষ্টি জাতের ভালো কমলার ফলন হবে।’

টাঙ্গাইল কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ অঞ্চলের মাটি কমলা চাষের উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে কমলাগাছ রোপণ ও পরিচর্যার বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের কমলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও দিচ্ছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইলডটকম)/-