‘কত সাংবাদিক ফটো তুলে নিল, ব্রিজ অইল না’

গ্রামবাসীরা ওই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরেই। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের সে দাবি স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও পূরণ হয়নি। গ্রামরাসীরা প্রতি বছর চাঁদা তুলে বাঁশ ও কাঠের ফালি দিয়ে খালের ওপর সেতু বানিয়ে কোনোমতে চলাচল করার ব্যবস্থা করে আসছে।

সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠের ফালি দিয়ে খালের ওপর তৈরি সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করছে। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল ছাড়া ভারী কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

এছাড়াও ওই সেতুর ওপর দিয়ে স্থানীয় হাতিয়া ডিগ্রী কলেজ, হতেয়া ডিএস দাখিল মাদ্রাসা, ছালাপিয়া দাখিল মাদ্রাসা, করটিয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, হতেয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, চতলবাইদ উচ্চ বিদ্যালয়, চতলবাইদ এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চলাচল করে থাকে।

তাছাড়া চতলবাইদ বাজার, হতেয়া বাজার, ওয়াজেদ মার্কেটসহ কয়েকটি হাটবাজারের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র সড়কও এটি। ওই সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজনের গ্রামগুলো হচ্ছে-হতেয়া, রাজাবাড়ি, চতলবাইদ, ছালাপিয়াচালা, ভাতকুড়াচালা, করটিয়াপাড়া, ভূইয়াপাড়া, গোবরাচালা, উইলাচালা, কাজীপাড়া, পাটখাগুড়িচালা, রামখালি, বাইল্লাচালা, সেন্দুরিয়া ও বহুরিয়া।

এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা পণ্য সেতুর অভাবে তাদের ২০/২৫কিমি ঘুরে নিতে হচ্ছে। এতে তাদের বেশি খরচ বেড়ে যায়। এলাকাবাসী চতলবাইদ-হতেয়া সড়কটি পাকাকরণসহ ওই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তারা বলেন,‘কত সাংবাদিক ফটো তুলল ব্রিজ অইল না’…।

চতলবাইদ দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আন্নাছ আলী, এনজিও কর্মী আমজাদ হোসেন বলেন, বহু বছর ধরেই সেতুটি নির্মাণে এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। যেখানেই আমরা জনপ্রতিনিধিদের দেখা পাই সেখানেই ওই সেতুটি নির্মাণের জন্য বলে থাকি।

স্থানীয় হাতিয়া ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জেসমিন আক্তার, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার জানান, বর্ষাকালে তারা ৩/৪ মাস বাঁশ-কাঠের সেতুটিও ডুবে থাকায় কলেজে আসতে পারেন না। এতে স্থানীয় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে থাকে।

(আব্দুল্লাহ আল নোমান, পরিবর্তন/ ঘাটাইল.কম)/-