এলেঙ্গা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে অনিহা

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড হচ্ছে কালিহাতীর এলেঙ্গা। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারও বলা হয়ে থাকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় অবস্থিত এলেঙ্গাকে। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গসহ ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ি, শেরপুর যেতে হলে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড হয়েই যেতে হয়। ফলে মহাসড়কের এই বাসস্ট্যান্ড এলাকা সব সময় ব্যস্ত থাকে। পথচারীদের মহাসড়ক পাড়ি দেয়ার জন্য কয়েক বছর আগে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। অথচ অধিকাংশ মানুষ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হয়ে থাকেন। এতে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সচেতনতার অভাব ও সামান্য সময় বাঁচাতেই তারা এই ঝুঁকি নিয়ে থাকেন বলে তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চার রাস্তার মোড়। পূর্ব-পশ্চিমে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পশ্চিম পাশে দুইলেনের সড়ক গেছে। সেখানে স্থানীয় বাজার। কিছুটা দূরে কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পূর্বপাশে অপেক্ষাকৃত সরু রাস্তা চলে গেছে চিড়ামুড়া হয়ে বল্লা-রামপুরার দিকে। উভয়পাশের মানুষকে নানা কাজে মহাসড়ক পাড়ি দিতে হয় প্রতিনিয়ত। চার রাস্তার মোড়ে খানিকটা উত্তরদিকে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। এই ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, খুব কম সংখ্যক মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করছেন। অধিকাংশই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পাড় হচ্ছেন। নারী-পুরুষ এমনকি শিশু-কিশোররাও এ ঝুঁকি নিচ্ছে। মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এদিক-সেদিক দেখে গাড়ির চাপ কিছুটা কম থাকলেই কেউ হেঁটে আবার কেউ প্রায় দৌড়ে পথ অতিক্রম করছেন। কেউ কাউকে বাধা দিচ্ছেন না।

কলেজ ছাত্র রাসেল মিয়া বলেন, আসলে তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে সরাসরি রাস্তা পাড় হয়েছি। তবে এটা ঠিক না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে অনেক। আমাদের উচিত ওভারব্রিজ দিয়ে পারাপার হওয়া। বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ বিজয় বলেন, ব্রিজ দিয়েই আসা দরকার। সরাসরি রাস্তা পার হওয়া ভুল হয়েছে।

শিশুকন্যাকে নিয়ে রাস্তার পাড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ব্যবসায়ী সজীব মিয়া। তিনি বলেন, ঘুরে সিঁড়ি বেয়ে যেতে একটু সময় লাগে। ঝামেলাও হয়। তাই এখান দিয়েই পাড় হই। অবশ্য এটা ঠিক না। কেউ বাধাও দেয়া না।

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার কয়েকজন দোকানদার বলেন, একটা থেমে থাকা গাড়ি দেখে রাস্তা পাড় হওয়ার সময় পেছন থেকে অন্য গাড়ি আসলেই চাপা পড়তে হবে পথচারীদের। উত্তরবঙ্গের গাড়ির যে গতি তাতে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। কেন যে মানুষ এই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছেন। সামান্য সময় আর ব্রিজের সিঁড়ি উঠার মতো পরিশ্রম করতে চাল না বলেই তারা এই ঝুঁকি নিচ্ছেন।

অনেক শিক্ষিত লোকও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না। এতে কেন যে মানুষের অনিহা! তবে প্রশাসনের মাধ্যমে পথচারীদের সরাসরি রাস্তা পাড় হতে না দিয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করা হলে হয়তো এক সময় তারা নিজেরাই এটি ব্যবহার করবেন। তাছাড়া রাস্তার পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিলেও মানুষ সহজে রাস্তা পাড় হতে পারবে না।

এ ব্যাপারে এলেঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাসুদেব সিনহা বলেন, সচেতনতার অভাবেই মানুষ এভাবে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পাড় হন। তারা কষ্ট করে ফুটওভার ব্রিজে উঠতে চায় না। তাদের অনেক নিষেধ করা হয়েছে এভাবে মহাসড়ক পাড় না হতে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। মহাসড়কে ডিভাইডার দিয়ে কাঁটাতারসহ রেলিং দিলে হয়তো কাজ হবে।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-