এলেঙ্গা-জামালপুর সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

টাঙ্গাইলে সওজের জমা ভিত্তিক কাজে পিডিবি’র ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সওজের আওতাধীন এলেঙ্গা-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বৈদ্যুতিক লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সম্প্রসারিত কাজে নতুন বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ ও পুরাতন লাইন অপসারণের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা অগ্রিম প্রদান করেছে সড়ক বিভাগ। তবে অভিযোগ রয়েছে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছে মত পূবের্র খুঁটি ও মালামাল ব্যবহার করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কতিপয় প্রতিষ্ঠান গুলো।

জানা যায়, টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের আওতাধীন এলেঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়কের সম্প্রসারণের কাজ চলছে। চলমান এই কাজ কালিহাতীর উপজেলার রাজাবাড়ী মোড় থেকে- ঘাটাইলের শহীদ সালাইউদ্দিন সেনানিবাস গেইট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের বিদ্যমান বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ ও নতুন বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ওই কাজের জন্য পিডিবি সওজ এর কাছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা অগ্রিম চাহিদা পত্র দেয়। পরে সওজ জমা ভিত্তিক কাজের জন্য চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুটি চেকের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা পিডিবিকে অগ্রিম প্রদান করে। এর বিপরীতে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কার্যাদেশ প্রদান করে পিডিবি। অনিক এণ্টারপ্রাইজ ও সাইম এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ পায়। তবে কাজ শুরু করার পর থেকেই নতুন মালামাল ব্যবহার না করে পুরাতন খুঁটি ও মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং পিডিবি’র কর্মকর্তাদের বিরেুদ্ধ।

সরেজমিন কালিহাতী ও ঘাটাইল গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী থেকে ঘাটাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের চুক্তি মোতাবেক কাজ না করে নতুন কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশাপাশি আগের ব্যবহৃত খুঁটিও ব্যবহার করেছে। এখন নতুন কিছু খুঁটি দিয়ে বাকি কাজ শেষ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। অপরদিকে এই বৈদ্যুতিক খুটিতে নতুন মালামাল ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করার কথা থাকলেও তা না করে পুরাতন গুলো দিয়েই কাজ শেষ করছে কর্মকর্তারা। এছাড়াও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি কিছু খুঁটি ব্যবহার করেছে যা ভাঙ্গা ও ব্যবহার অনুপযোগী। এ বিষয়ে শ্রমিকরা জানায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যেভাবে আমাদের কাজ করতে বলবে আমরা সেইভাবেই কাজ করবো। কিছু বলার থাকলে তাদের গিয়ে বলেন।

স্থানীয়রা জানায়, রাস্তার পাশে আগের যে বৈদ্যুতিক খুঁটি ছিলো তা দিয়েই কাজ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুলো। এছাড়াও কিছু নতুন খুঁটি ব্যবহার করেছে যার অধিংকাশ ভাঙ্গা। এরফলে রাস্তার পাশে যাদের বাড়ি-ঘর আছে যদি কোন দুর্ঘটনা হয় তার দায়ভার কে নিবে। আমরা এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত শ্রমিকরা জানান, রাস্তার পাশে যে সকল খুঁটি ছিলো তা উঠিয়ে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে লাগানো হচ্ছে। আমরা তো কাজ করি। ঠিকাদার ও পিডিবি’র লোকজন আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলছে আমরা সেই ভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়োকৃত আলী আকবর বলেন, আমাদের কাজ হলো খুঁটি নিয়ে তা রাস্তার পাশে লাগানো। খুঁটি আনার পর মাটিতে নামানোর সময় কিছু তো নষ্ট হবেই। তবে আমরা ভালো খুঁটি গুলোই কাজে লাগাচ্ছি। এ প্রতিবেদক তার কাছে ভাঙ্গা এবং ফাটল ধরা খুঁটি কেন ব্যবহার করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার যে আছে তার সাথে কথা বলেন।

কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সার্বক্ষনিক মনিটরিং এর মাধ্যমে সকল কাজ দেখা শোনা করছি। এখানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং অনান্য কর্মকর্তাদের ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যে অভিযোগ গুলো উঠেছে তা সর্ম্পন মিথ্যা। সত্যি কথা বলতে কেউ বিষয়টি ভালোভাবে জানেন না। তাই এই ধরনের কথা উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সওজের জমা ভিত্তিক কাজের ছাপ ঠিকাদার রুহুল আমিন বলেন, ঠিকাদার তো আর এক দিনের জন্য না। কাজ তো আমাদের করতেই হবে। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করছি। তবে কিছু কিছু কাজে তো সমস্যা থাকবেই। কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তো আর সব কিছু ভালোভাবে করতে পারে না। আপনি কষ্ট করে আসছেন আপনার সাথে দেখা করবো নি। আপনি আমার বড় ভাই। আমাদের একটু নজরে রাইখেন। মিষ্টি খাওয়ার জন্য কিছু দিবোনি ভাই। বিষয়টি দেইখেন।

এ বিষয়ে পিডিবি’র টাঙ্গাইলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রামানিক জানান, নতুন মালামাল ব্যবহার করা না হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীদের সেইভাবে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। তাই এখানে তেমন কোন কিছু করার সুযোগ নেই। তারপরও যদি কেউ এ ধরনের কাজে যুক্ত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিমুল এহসান বলেন, অগ্রিম টাকা প্রদান করায় বিল কর্তনের কোন সুযোগ নেই। দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। আর এ ধরনের প্রকল্পে নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটি ব্যবহার করার কথা থাকে। পুরাতন গুলো ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকে তার অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-