এলেঙ্গায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য সহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ২০নং এলেঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুপর্ণা ভৌমিকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য সহ প্রতিষ্ঠানের পুরাতন বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙ্গে ইট ও রডের বিক্রিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় মো. সাইফুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং সহ জেলা প্রশাসক ও দূর্নীতি কমিশনের নিকট অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষিক সুপর্ণা ভৌমিক প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই ৫ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বাধ্যতামূলক কোচিং বাণিজ্য গড়ে তুলেছেন। মাসিক ৪’শত টাকা ছাত্র প্রতি বেতন নিয়ে এই নিয়ম বহির্ভূত কোচিং বাণিজ্য চলছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের অভিভাকদের পক্ষে এ অতিরিক্ত বেতন দিয়ে কোচিং ক্লাশ করানো অসাধ্য হলেও প্রধান শিক্ষকের চাপের মুখে তারা তাদের সন্তানদের পড়ালেখা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে ঠিকমত পাঠদান না করে পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দিয়ে ও বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের কোচিং করাতে বাধ্য করানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

যদিও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ২৩ আগস্ট ২০১৫ ইং তারিখে জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী কোচিং বাণিজ্য করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এহেন প্রধান শিক্ষিকা সুপর্ণা ভৌমিক স্থানীয় দু-একজন প্রভাবশালীকে ম্যানেজ করে ওই প্রজ্ঞাপনের কোন তোয়াক্কাই করছেন না।

এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কালিহাতী উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় ২০ নং এলেঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে টেন্ডারের আহবান করে। এ খবরটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুপর্ণা ভৌমিক জানতে পেরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কতিপয় সদস্যদের যোগসাজসে পূর্বেকার বাউন্ডারি দেয়ালটি সুকৌশলে অপসারণ করে বাউন্ডারির সরঞ্জামাদি অন্যত্র বিক্রি করে তার সমুদয় অর্থ তারা আত্মসাৎ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, অত্র বিদ্যালয়ের উত্তর ও পূর্ব দিকে আনুমানিক ২২৫ ফুট লম্বা একটি বাউন্ডারি ছিল, নতুন বাউন্ডারি নির্মিত হলেও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি পুরাতন বাউন্ডারি ওয়ালের ধ্বংসাবশেষ।

প্রকাশ্য যে, ২০০৬ সালে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে সুপর্না ভৌমিক ওই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতিসহ প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত ফাঁকিবাজি চলছে।

এ বিষয়ে ২০নং এলেঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুপর্না ভৌমিক সাংবাদিকদের বলেন, দেয়ালটি পূর্ব থেকে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বরাদ্দ দেয়ায় পূর্বের পুরাতন দেয়ালটি আমরা রাখি নাই। তবে আমরা বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শককে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এমনকি পুরাতন বাউন্ডারি ওয়ালের বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের মাধ্যমে রেজুলেশন করে আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেছি।

কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক মুঠোফোনে জানান, আমি ওই বিষয়টির উপর তদন্ত করে জানতে পারি যে প্রধান শিক্ষিকা সুপর্না ভৌমিক বিনামূল্যে কোচিং করান। যাহা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈধতা রয়েছে। তবে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙ্গে বিক্রিত অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি খুব দ্রুত তদন্ত করব।

(জাহাঙ্গীর আলম, ঘাটাইলডটকম)/-