এলেঙ্গার সড়কে দায়সারা নিম্নমানের কাজে মানুষের চরম ভোগান্তি

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা দিয়ে দেশের প্রায় ২৪টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতে বাসস্ট্যান্ড এলাকার মহাসড়কের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে যানবাহন চলাচল হচ্ছে ভয়াবহ অসুবিধা। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ। ভোগান্তির শিকার মানুষের অভিযোগ মহাসড়কে ইটের জোড়াতালি দিয়ে দায়সারা নিম্নমানের কাজের জন্য এই অবস্থা সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখা যায় প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় মহাসড়কের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অনেক বড় বড় গর্তের। সেই গর্তে ভরাট হয়ে রয়েছে পানি। চলাচলকারী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন গর্তে পড়ে বেঁকে যাচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডের চারপাশ কাঁদায় ভরা। যাতায়াতকারীরা দাঁড়ানোর জায়গা টুকুও পাচ্ছেন। অনেকে পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হওয়ার সময় কাঁদা এসে লাগছে শরীর কিংবা কাপড়ে। পড়ছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

এছাড়া বাসস্ট্যান্ডে খানাখন্দের জন্য যানবাহনগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। ফলে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৈরি হচ্ছে স্বল্প যানজট। আরো দেখা যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের শ্রমিকরা ইট দিয়ে গর্ত মেরামত করার চেষ্টা করছেন। আবার হঠাৎ বৃষ্টি কিংবা গাড়ির চাকার চাপে সেগুলো মিনিষেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাস চালক রায়হান মিয়া বলেন এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাঁদা ও খানাখন্দের জন্য গাড়ি থামানো জায়গা টুকু নেই। এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইলগামী অমিত হাসান নামের এক কলেজ ছাত্র বলেন চেয়ে দেখেন এখানে দাঁড়ানোর কোন পরিবেশ আছে কিনা? এগুলো কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ে না। বাসস্ট্যান্ডের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন বৃষ্টিতে কাঁদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় আমাদের জীবন আর ব্যবসা শোচনীয়।

দুই দিন পরপর ইট দিয়ে লোক দেখানো কাজ করে, সেটা কয়েকদিন পরেই নষ্ট হয়ে যায়। আর ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের টিভিএস মোটর সাইকেল শোরুমের সত্ত¦াধিকারী মানিক তালুকদার বলেন এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এই অল্প টুকু জায়গার জন্য আমাদের প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই জোড়াতালির কাজ না করে স্থায়ী মেরামত করা দরকার।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায় এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৪-১৫ হাজার ছোটবড় যানবাহন চলাচল করে। এদিকে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের চারদিকে গড়ে উঠেছে একাধিক ব্যাংক বীমা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জনবহুল এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে প্রতিদিন পায়ে চলাচল করেন হাজার হাজার মানুষ।

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্বরত টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই রফিকুল ইসলাম বলেন খানাখন্দের জন্যে যানবাহনগুলো বাসস্ট্যান্ডে আসার পর গতি একেবারে থেমে যায়। আর যানজটের সৃষ্টি হয়। সেইসাথে মানুষের ভোগান্তি চরমে। আমরা খুব কষ্টে ডিউটি পালন করি। এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী বলেন বাসস্ট্যান্ডের এই সমস্যার কথা আমি একাধিকবার টাঙ্গাইলে মিটিং এ বলেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। মেয়র আরো বলেন এখানে তাড়াহুড়া করে অতি নিম্নমানের দায়সারা কাজ করে সড়ক বিভাগ। এটাও বলেছিলাম। জনগণের ভোগন্তি হলেও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের কোন কষ্ট নেই।

এবিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান বলেন কয়েকদিনে ভারি বৃষ্টিতে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সৃষ্টি হওয়া গর্ত ইট দিয়ে সাময়িকভাকে মেরামত করা হচ্ছে। যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। আর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ৩০০ মিটার রাস্তা পাকাকরনের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-