এমপি পাপুল গ্রেফতারের তথ্য জানে না সংসদ

সংসদ সদস্য (লক্ষ্মীপুর-২) মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম (পাপুল) কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক বাংলাদেশের স্বতন্ত্র এ এমপির বিষয়ে সংসদকে কুয়েত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেউই অফিসিয়ালি কোনও তথ্য দেয়নি। বাংলাদেশের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সোমবার  (৬ জুলাই) দুপুরে এ কথা জানান।

জাতীয় সংসদের কোনও সংসদ গ্রেফতার হলে গ্রেফতারকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারকে জানানোর বিধান রয়েছে।

গত ৭ জুন মানবপাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে সংসদ সদস্য পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তারা দাবি করেছে, বাংলাদেশের ওই সংসদ সদস্য মানুষকে প্রতারিত করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এবং এই কাজে তাকে কুয়েতের প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তারাও সহায়তা করেছে ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য সুযোগের বিনিময়ে।এখন পর্যন্ত তদন্তে বের হয়ে এসেছে, পাপুল প্রতি বছর বিভিন্ন ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য খরচ বাদ প্রায় ৬০ কোটি টাকা নেট লাভ করতেন।

এছাড়া পাপুল এবং তার কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ ফ্রিজ করার জন্য ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটর। সম্প্রতি কুয়েতের আদালত তাকে ২১ দিনের জন্য জেলে পাঠিয়েছে। কুয়েতের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে দেশটির কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের এই সংসদ সদস্যকে।

এদিকে বিদেশের মাটিতে একজন সংসদ সদস্যের আটকের ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। অবশ্য এই সংসদ সদস্যের আটকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কুয়েতে গ্রেফতার হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘ওই সংসদ সদস্যের গ্রেফতারের বিষয়ে অফিসিয়ালি আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনও খবর নেই। আমরা গণমাধ্যম থেকে যতদূর যা জেনেনি। অফিসিয়ালি কোনও তথ্য আমাদের কাছে আসেনি।’

স্পিকার বলেন, ‘কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদ সদস্যের গ্রেফতার বা আটকের কোনও খবর বা সংবাদ কোথাও থেকে দেওয়া হয়নি। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই আমাদের জানাবেন।’ এখানে কর্তৃপক্ষ বলতে কুয়েত সরকার হওয়ার কথা বলেও স্পিকার মনে করেন।

দেশের অন্য কোনও মন্ত্রণালয় বা সংস্থা এই গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হয়েছেন কিনা বা হলেও কীভাবে হয়েছেন স্পিকারের জানা নেই বলে উল্লেখ করেন।

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭২ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, কোনও সংসদ সদস্য গ্রেফতার বা সাজাপ্রাপ্ত হলে স্পিকারকে জানাতে হবে। বলা হয়েছে, কোনও এমপি ফৌজদারি অভিযোগে বা অপরাধে গ্রেফতার হলে কিংবা কোনও আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা কোনও নির্বাহী আদেশে আটক হলে গ্রেফতারকারী বা দণ্ডদানকারী বা আটককারী কর্তৃপক্ষ বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত যথাযথ ফরমে গ্রেফতার, দণ্ড বা আটকের কারণ বর্ণনা করে ঘটনা সম্পর্কে স্পিকারকে জানাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ উপ-সচিব (আইন) নাজমুল হক বলেন, ‘সংসদের কোনও সদস্য গ্রেফতার হলে তা স্পিকারকে মহোদয়কে জানাতে হবে। কোনও সদস্য গ্রেফতারের পর মুক্তি পেলেও একই বিধান। কার্যপ্রণালি বিধিতে গ্রেফতারের বিষয়ে বাংলাদেশে বা বিদেশে হলে কী হবে তা আলাদা করে উল্লেখ নেই। আমার মনে হয়, বিদেশের ক্ষেত্রে হলেও কোনও না কোনও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা স্পিকারকে জানাতে হবে।’

(বাংলা ট্রিবিউন, ঘাটাইল ডট কম)/-