এবারও কারাগারে কাটছে খালেদা জিয়ার ঈদ

সোমবার ১২ আগস্ট ঈদ। আসছে ঈদুল আজহার আগে জামিন কিংবা প্যারোল কিছুই হয়নি কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তাই জীবনের আরেকটি ঈদ কাটাতে হবে কারাগারে বন্দি অবস্থায়। এ নিয়ে টানা চারটি ঈদ কারাগারের বন্দিদশার মধ্যেই পালন করতে হচ্ছে ৭৪ বছরে পা দেওয়া সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে। যদিও গত এপ্রিল থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। প্রথমে মুক্তি, পরে দলীয় প্রধানের সুচিকিৎসার দাবি; এ দাবি কার্যত দাবিতেই থেকে যাচ্ছে। আন্দোলনের বুলিতেই সীমাবদ্ধ সবকিছু। গতকালও সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঈদুল আজহার আগেই দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি চেয়েছে বিএনপি।

সরকার ও বিএনপির সূত্র জানায়, দলের সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর থেকেই সরকারের সঙ্গে ‘প্যারোল’ নিয়ে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি চলছে বিএনপির। কিন্তু এ দরকষাকষি এখনও পরিপক্বতা পায়নি। তবে ঈদের পর যেকোনো সময় প্যারোল আবেদন করা হতে পারে খালেদা জিয়া ও তার দলের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে কয়েকদিন আগে বিদেশ থেকে ঢাকায় ফিরে হাসপাতালে থাকা শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করেছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী শর্মিলা রহমান। ঈদের দিন আবারও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেন তিনি। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বলছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

চিকিৎসকরা নিয়মিত পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে মাহবুবুল হক নিউজ টাঙ্গাইরকে বলেন, সর্বশেষ রিপোর্ট অনুয়ায়ী খালেদা জিয়ার সুগার ও ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে আছে। যা তার সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমাদের মেডিকেল বোর্ড নিয়মিত দেখছেন। প্রয়োজনে ঈদের দিনও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। আর সাধারণত তিনি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় চিকিৎসকদের জানান। ঈদের দিন হাসপাতাল থেকে নয়, তার পছন্দ অনুয়ায়ী খাবার কারা কর্তৃপক্ষ দেবেন।

এদিকে বিএনপির হাইকমান্ডের দাবি, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন চলছে। যা ‘ঈদের পর’ আরও বেগমান হবে। আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনের দিকেও হাঁটবে বিএনপি। দলের মহাসচিব নিজেই বলেছেন, ‘আমাদের আন্দোলন চলছে। আগামী দিনেও চলবে। তবে হরতাল-মিছিলের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দল’।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিউজ টাঙ্গাইলকে বলেন, বিএনপির বড় একটি অংশ সরকারের সঙ্গে ‘আঁতাত’ করায় এখনও খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। আন্দোলন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ভ‚মিকা হতাশজনক। হয়তো চেয়ারপারসনের মুক্তি হবে জনগণের গণঅভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে। তবে কবে হবে সহসাই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তিতে ‘একলা চল’ নীতিতেও ফল ভালো হয়নি এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির। দলের একক কর্মসূচিতে বেজার হয়েছে ২০ দলীয় জোট। ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে আরও ঐক্যহীন। এমন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে শনিবার রাতে হঠাৎই স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুুল মঈন খানকে নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় হাজির হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারা রবের উত্তরার বাসায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তবে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বড় ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ওই বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশায় আছেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম জোট ছাড়ার ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়। তবে জোটে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হচ্ছে এবার। কারাগারে এটাই চেয়ারপারসনের প্রথম ঈদ নয়। এর আগেও তিনি সংসদ ভবন এলাকার সাব জেলে দুটি ঈদ পালন করেছেন। জীবনে দ্বিতীয়বার কারাবন্দি হয়ে এবার ষষ্ঠবার কারাগারে ঈদ করতে হচ্ছে তাকে।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর প্রথম কারাগারে পালিত হয় তার রোজার ঈদ। ওই বছর কোরবানির ঈদও সংসদ ভবনের সাব জেলেই পালন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদন্ড দেন। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-