একমাত্র বন্দি নিয়ে যেমন আছে ২২৮ বছরের পুরনো পরিত্যক্ত কারাগারটি

ইতিহাসের সাক্ষী নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার। এই কারাগারটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর বন্দিদের স্থানান্তর করা হয়েছে কেরানীগঞ্জের নবনির্মিত কারাগারে। এক সময়ে ব্যস্ত এই কারাগারে এখন মাত্র একজন বন্দির বাস। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া।

পুরনো কারাগারটি ৩৬.২১ একর স্থান নিয়ে। ঢাকার যানজট ও স্থান সংকুলান না হবার কারণে এই কারাগারকে স্থানান্তর করা হয়। ৩০শে জুলাই ২০১৬ সালে স্থানান্তর করা হয় কারাবন্দিদের। কারাগারটি ২২৮ বছরের পুরনো। তবে এই স্থানে বন্দি আটকিয়ে রাখার ইতিহাস প্রায় ৪শ’ বছরের। এটি শুধু কারাগার নয়, বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।

সরেজমিনে কারাগারের সামনে দেখা যায় পাহারারত আছেন প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্য। দুইজন নারী পুলিশের পাশাপাশি রয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষের একজন নিরাপত্তারক্ষী। কারাগারের সামনের গেটে বেরিক্যাড দিয়ে রাখা হয়েছে। যে কেউ পাশে ভিড়তেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ঠিক সড়কের পাশে বেরিক্যাড ঘিরে ২ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে কারাগারের চারপাশে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন একাধিক পুলিশ সদস্য।

কারাগারের মূল ফটকের পাশে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে চায়ের দোকান করে আসছেন তারা মিয়া। তিনি বলেন, আমার দোকানের চারপাশে প্রায় ৮টি চায়ের দোকান ছিলো। কারাগার চলে যাওয়ায় সবাই দোকান গুটিয়ে নিয়ে গেছে। আর তার বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলেও জানান তিনি।

রংহীন, চলটা ওঠা, ক্লান্ত উঁচু কারাগারের দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে। এগুলোকে দখল করে নিয়েছে পোস্টার। তার নিচেই অনেক স্থানে ময়লার স্তূপ। প্রস্রাবের গন্ধও নাকে আসে বেশ।

উঁচু লাল দেয়ালঘেরা কারাগারটির সামনে বিশাল ফটক। মূল সেই ফটক দিয়ে ঢোকার পর পার হতে হয় আরও একটি তোরণ। এই পরিসরের মধ্যেই ছিল ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কারাগারের প্রশাসনিক ভবন। ভবনটি আগে সরগরম ছিল কারাগার প্রশাসকদের কর্মচঞ্চলতায়। পরিত্যক্ত কারাগারের নির্জন এই ভবনে ঠাঁই হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এদিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা রয়েছে ও টিভিতে স্যাটেলাইট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই দুর্নীতির মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বরে জাতীয় ৪ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে এই স্থানটি নতুনরূপে আসছে। ইতিমধ্যেই নেয়া হয়েছে মেগা পরিকল্পনা। নির্মাণ করা হবে পার্ক, খননকৃত লেক, সুইমিং পুল, বহুতল গাড়ি পার্কিং, ওয়াচ টাওয়ার, সিনেমা হলসহ মাল্টিকমপ্লেক্স মার্কেট। এ ছাড়াও নির্মাণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, জাতীয় চার নেতার জাদুঘর ও হাসপাতাল ভবনসহ আরো দু’একটি স্থাপনা। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৩৩ কোটি টাকা।

ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদ বলেন, মেগা প্রজেক্টের বর্তমান কাজ চলমান রয়েছে। আমাদের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে ভাঙ্গার কাজও শুরু হবে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

173total visits,3visits today