ঈদের নামাজ মসজিদে আদায়ের নির্দেশনা জারি ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের

আগামী ১ আগস্ট সারা দেশব্যাপী উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। বর্তমান সময়ে চলমান মহামারী করোনাভাইরাসের বহুল সংক্রমণ ঠেকাতে আসন্ন ঈদ-উল-আযহার নামাজ মহল্লার নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার নির্দেশ প্রদান করে গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে এই নির্দেশনা জারি করে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘাটাইল পৌর এলাকায় মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব ও সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবং ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাটাইল উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগস্ট মাস শোকের মাস। তাই জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলায় কোন স্থাপনা, ইমারত, বাসা বাড়ীতে কোনপ্রকার আলোকসজ্জা করা যাবে না। এছাড়া সাউণ্ড সিস্টেমে উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঈদের নামাজে জামাত শেষে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য এবং কোভিড-১৯ ও বন্যা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষ দোয়া করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য: করোনার প্রভাবে গত ঈদ-উল-ফিতরের নামাজে জামাতও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে আদায় করা হয়।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত মসজিদে আদায় করা, কোলাকুলি না করাসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয় এসব নির্দেশনা জারি করে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে:

  • করোনাভাইরাসের কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদুল আজহার নামাজের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে কাছের মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে।
  • ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না।
  • নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।
  • মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
  • ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজুর সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
  • মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
  • মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।
  • জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে।
  • মসজিদে রাখা জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
  • নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।
  • শিশু, বৃদ্ধ, যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না।
  • সর্বসাধারণের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
  • জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না।

নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা হয়। খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয় সে নির্দেশনায়। এ ছাড়া পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-