ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্যদের চলে যাওয়ার প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাশ

ইরাক থেকে সমস্ত বিদেশী সৈন্যদের চলে যাওয়ার আহ্বান সম্বলিত এক প্রস্তাব সেদেশের পার্লামেন্টে পাশ হয়েছে। ইরানী জেনারেল সোলেইমানির হত্যাকান্ডের কয়েকদিনই পরই ইরাকি পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব ওঠে। কোনো কারণেই যেন বিদেশী সৈন্যরা ইরাকের আকাশ, স্থল এবং জলসীমা ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানানো হয় ঐ প্রস্তাবে। ইরাকে বর্তমানে আমেরিকার প্রায় ৫,০০০ সৈন্য রয়েছে। (খবর- বিবিসি)

কোনো কারণেই যেন বিদেশী সৈন্যরা ইরাকের আকাশ, স্থল এবং জলসীমা ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানানো হয় ঐ প্রস্তাবে।

ওদিকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোয়ালিশন বাহিনী ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ ঘোষণা করেছে মার্কিন, ব্রিটিশ এবং অন্যান্য দেশের সৈন্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা ইরাকে আইএস-এর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে দিচ্ছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহাদি ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর দেওয়ার পর তা ভোটের জন্য সংসদে উত্থাপিত হয়। এর আগে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে সাক্ষরের ইঙ্গিত দেন। রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিশেষ অধিবেশনে ইরাকের সংসদের ৩২৯ সদস্যের মধ্যে ১৭০ জনই ওই প্রস্তাবে সায় দিয়ে সই করেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর।

ইরাকের পার্লামেন্টে যেকোনো বিষয় কার্যকর করতে ১৫০ ভোটের প্রয়োজন হয়। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাবটিতে তারও বেশি সদস্য স্বাক্ষর করায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না বলে অনুমান।

শুক্রবার ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বিমানবন্দরের নিকটে অতর্কিত মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেইমানি। তার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরাকি সরকারের মধ্যে অবিলম্বে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি ওঠে।

জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র তড়িঘড়ি করে আরও তিন হাজার সেনা ইরাকে পাঠিয়েছে। এরাসহ বর্তমানে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের কন্টিনজেন্টগুলোতে ৬ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদের সংবিধানের ৫৮ ধারার বিরোধী ‘অবৈধ কার্যকলাপের’ জন্যে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন হামলা ইরাকের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। এই ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা ইরাকের জাতীয় আত্মমর্যাদাবোধের জন্যে ‘অপমানজনক’।

সোলেইমানি নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের পাশাপাশি ইরাকেও ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে। কারণ দেশটিতে ইরান সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করা ইরাকের ‘জাতীয় দাবি’তে পরিণত হয়েছে।

পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন চলাকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিয়া সংসদ সদস্য সালিম আল-জাবোওরি বলেন, ‘বাগদাদের বিমানবন্দরে মার্কিন সন্ত্রাসী হামলা স্পষ্টতই ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির লঙ্ঘন।’

আমার আল-শিবলি নামের এক আইনপ্রণেতা বলেন, ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের পতনের পর আর মার্কিন সেনা থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের নিজস্ব সামরিক বাহিনী রয়েছে। তারাই আমাদের দেশকে রক্ষা করতে পারবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা শুরু করতে পারে। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা বা মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে।

প্রস্তাবে কী রয়েছে

-ইরাকের পার্লামেন্টে পাশ হওয়া ভোটে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার যে অনুরোধ আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন বাহিনীকে করা হয়েছিল তা যেন বাতিল করে দেয়া হয়।

-বলা হয়েছে, “সরকার যেন ইরাকে বিদেশী সৈন্যের উপস্থিতি এবং ইরাকের স্থল, আকাশসীমা এবং জলসীমা বিদেশী সৈন্যদের জন্য নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়।”

-এছাড়াও, প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে “ইরাকি নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ” করার জন্য সরকার যেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ করে।

তবে জানা গেছে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-