ইভটিজিং এর বিচার না পেয়ে বাসাইলে বাবার মৃত্যু

0Shares

বখাটে কর্তৃক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার বিচার না পেয়ে কষ্ট আর অভিমানে চিরবিদায় নিলেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের সংবাদপত্র বিক্রেতা শাহজাহান মিয়া। স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি তীব্র মানসিক কষ্টের কারণে মৃত্যু হয়েছে তার। গ্রাম্য মাতব্বরসহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও কাঙ্খিত বিচার পাননি তিনি।

মৃত্যুর আগেও বার বার তার কষ্টের কথা বলে গেছেন স্বজনদের কাছে। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না শাহজাহানের স্বজনরা। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় বখাটে সোহেলের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্বজনরা।

শাহজাহান সংবাদপত্র বিক্রির আয় দিয়ে সংসার চালাতেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে তার। বড় মেয়ে প্যারা মেডিকেলে পড়ে। ছোট মেয়ে বাসাইল জোবেদা-রুবেয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। দুই ছেলের একজন অষ্টম শ্রেণি ও আরেকজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

একই এলাকার মাহফুজুর রহমানের বখাটে ছেলে সোহেল মিয়া প্রায়ই রাস্তাঘাটে শাহজাহান মিয়ার ছোট মেয়েকে উত্যক্ত করতো। এ নিয়ে গ্রাম্য মাতব্বরসহ বিভিন্নজনের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি বাবা শাহজাহান মিয়া। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি সোহেল মেয়েটিকে মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শাহজাহান।

তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ৬ ফেব্রুয়ারি দু’পক্ষকে ডেকে শুনানি করেন।

পরে কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন। এরপর থেকেই মূলত শাহজাহান ভেঙে পড়েন।

থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিচার না পেয়ে তিনি বিমর্ষ হয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি নির্যাতনের বিচার আর কখনও পাবেন না এমন বদ্ধমূল ধারণা থেকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোর রাতে তিনি মারা যান।

এদিকে তার ছোট মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে বখাটে সোহেল মিয়া।

ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে নির্যাতনের শিকার পরিবারটিকে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য সব রকমের চেষ্টার কথা বলেছেন টাঙ্গাইল জেলার বাসাইলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না।

শাহজাহানের মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার। তেমনি এলাকার মানুষের মাঝেও বিরাজ করছে শোকের ছায়া। বখাটে সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে এলাকাবাসী। যাতে এ ধরণের ইভটিজিং এর মত ঘটনা আর না ঘটে।

(মুসলিম উদ্দিন আহমেদ, ঘাটাইলডটকম)/-