আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু

হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম বা মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে যাওয়ার একদিন পরই আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু হয়েছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। রাত ১০ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার শুরা সদস্য ও নানুপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সালাউদ্দিন এ ঘোষণা পাঠ করে শোনান।

ঘোষণায় বলা হয়, মুহতামিম বা মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে যাওয়ায় আল্লামা শফীকে সদরে মুহতামিম বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এদিকে পদত্যাগ করার পর আল্লামা শাহ আহমদ শফী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পড়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আইসিইউ ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ার পর আজ শুক্রবার বিকালে তাকে ঢাকায় আনার পরই তার মৃত্যু হয়।

হেফাজতের আমির আল্লামা শফীর স্মৃতিচারণ করে তার সাবেক প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমেদ বলেন, আমি ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওনার সঙ্গে ছিলাম। হুজুর অত্যন্ত সহজ, সরল ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে খুবই কর্তব্যনিষ্ঠ ছিলেন। ঈমান-আক্বীদার বিষয়ে ছিলেন আপোষহীন। তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তিনি অর্থনৈতিক লেনদেনে খুবই স্বচ্ছ ছিলেন। কখনও বাইরে গেলে মাদ্রাসা আসার পর প্রথমেই হিসাব বিভাগে ঢুকতেন। তিনি সবার আগে হিসাব দেয়ার পর অন্য বিভাগে যেতেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী একজন ইসলামি ব্যক্তিত্ব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির। তিনি একইসঙ্গে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তিনি দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামের হাটহাজারীর মহাপরিচালক ছিলেন।

শাহ আহমদ শফী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম ও ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় শিক্ষালাভ করেন। শফী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। মাদ্রাসার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে নেয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

প্রায় শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-