২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

আজ ঐতিহাসিক ৬ই এপ্রিল

এপ্রি ৬, ২০২০

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালীদের উপর। ২৬ মার্চ শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ইয়াহিয়া-টিক্কা বাহিনীর একটি প্রধান আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু ছিল টাঙ্গাইল, বিশেষত সন্তোষ।

৩ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদাররা টাঙ্গাইলে এবং ৪ এপ্রিল মওলানা ভাসানীর খোঁজে সন্তোষে প্রবেশ করে। সেখানে তাঁকে না পেয়ে তারা তাঁর কুড়েঘড় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মিত ও নির্মানাধীন গৃহাদীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহুর্তেই ছাঁই হয়ে যায় তাঁর স্বপ্নের ক্যাম্পাস, বসতবাটি। পুড়ে যায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে লিখা কোরআন শরীফসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ।

এরপর তারা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তাঁর প্রিয় দরবার হলে। কিন্তু অলৌকিকভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে তা নিভে যায়।

অতঃপর সন্তোষে ভাসানীকে না পেয়ে ৬ এপ্রিল রোজ মঙ্গলবার বর্বর হানাদাররা মাইল দুয়েক পশ্চিমে বিন্যাফৈর গ্রামে প্রবেশ করে। বিকাল ৫.৩০ মিনিটে তারা গ্রামটিকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে এলোপাথাড়ি গোলাগুলি শুরু করলে গ্রামবাসী দিক-বেদিক ছুটে পালাচ্ছিল।

মওলানা ভাসানী হানাদারদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে বাড়ির উত্তর দিকের পুকুরে অবস্থান নেন এবং পরবর্তীতে গান-পয়েন্টে এগিয়ে আসা হানাদার বাহিনীর ফাঁক ফোঁকর গলিয়ে জনতার সাথে মিশে যান। যেন শীতে আক্রান্ত চাদরে ঢাকা কোন এক অসহায় বৃদ্ধ স্বাভাবিকভাবেই পাক সেনাদের পাশ গলে চলে গেলেন।

এক সময়ে স্ট্রেচার বুলেট দিয়ে দূর থেকেই আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তাঁর এই বাড়িতে। এরপর ধলেশ্বরী-যমুনা হয়ে ১৫-১৬ এপ্রিল তিনি রৌমারীর নামাজের চর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

তথ্যসূত্র: হককথা, ২৬ মে ১৯৭২ এবং স্থানীয় জনতার সাক্ষাৎকার। হায়েত আলী (৭০), সাথে ছিলেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার বাবুল চৌধুরী।

(আজাদ খান ভাসানী, ঘাটাইল ডট কম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Adsense

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

Divi Park

পঞ্জিকা

June 2020
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Adsense